ইসকনের সমস্ত দায়িত্ব থেকে রাধারমণ দাসকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন। রবিবার একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আপাতত তিনি ইসকনের কোনও পদে থাকবেন না। পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যম, সরকারি সংস্থা বা অন্য কোনও জায়গায় তিনি আর ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসকনের দাবি, সংগঠনের নিজস্ব নিয়ম ও কাজের নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। গত কয়েক বছরে রাধারমণ দাসকে একাধিকবার সেই নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা অনুসরণ করেননি। অভিযোগ, তিনি অনেক ক্ষেত্রে সংগঠনের নির্ধারিত অবস্থানের বাইরে গিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিজের দায়িত্বের সীমার বাইরেও হস্তক্ষেপ করেছেন।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের পর নিজের এক্স হ্যান্ডলে রাধারমণ দাস একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, তাঁকে ইসকনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়াও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হতে পারে।
রাধারমণ দাস আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করা এবং বিজেপি নেত্রী মেনকা গান্ধীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর ঘটনাও তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এই বিষয়গুলিকে ইসকন তাদের সরকারি বিবৃতিতে আলাদা করে উল্লেখ করেনি।
আরও পড়ুনঃ টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে জলস্তর, একের পর এক এলাকায় সত*র্কতা জারি! কলকাতার দিকেও কি বাড়ছে উদ্বেগ? পরিস্থিতির দিকে ক’ড়া নজর নবান্নের, বড় বি’পদের মুখে রাজ্যবাসী?
এর আগেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব হয়েছিলেন রাধারমণ দাস। এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রতিদিনই এমন ঘটনার খবর সামনে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন এবং এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক।






