বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জামাতে ইসলামি। সরাসরি কোনও কর্মসূচি বা নির্বাচনী ঘোষণা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র আলোড়ন। বিশেষ করে নারীদের ভূমিকা ও স্বাধীনতা নিয়ে কট্টর মতাদর্শের প্রশ্ন নতুন করে সামনে চলে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক শুধুই একটি পোস্ট ঘিরে নয়, বরং জামাতের আদর্শগত অবস্থান নিয়েই গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত গত ৩১ জানুয়ারি। সেদিন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে চাকরিজীবী নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে ‘পতিতাবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দেশজুড়ে শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত দাবি করা হয়, আমিরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। যদিও ততক্ষণে নারীদের নিয়ে জামাতের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিতর্কে জড়ান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অভিযোগ, তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করা হয়, যেখানে জামাত আমিরের আগের বক্তব্যেরই সমর্থন জানানো হয়েছিল। বিতর্ক বাড়তেই গোলাম পরওয়ারও দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। একের পর এক শীর্ষ নেতার অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’-এর দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে।
এরপর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনেন জামাত নেতারা। ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ভারতের তৈরি ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে তাঁদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। এমনকি বঙ্গভবনের ই-মেইলের মাধ্যমে সেই ম্যালওয়্যার ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তবে এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রযুক্তিগত প্রমাণ সামনে আনতে পারেনি জামাতে ইসলামি। ফলে বিষয়টি আরও সন্দেহজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুনঃ ‘দলের জন্য লড়তে আসিনি’—এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করে ইতিহাস গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জামাতের নারীবিদ্বেষী অবস্থান প্রকাশ্যে চলে আসছে। ভারত বিদ্বেষ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত অবস্থান এবং বারবার হ্যাকিংয়ের দোহাই—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে কট্টর এই দলটির ওপর। অতীতে আমেরিকার সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’র দাবি করলেও ওয়াশিংটনের তরফে তা নাকচ করা হয়েছে। নারীদের কর্মসংস্থানকে ঘিরে এমন মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলেও জামাতের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক অস্বস্তির এক কঠিন সময়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি।





