এতদিন পর্যন্ত বিজেপি-তৃণমূল তরজা ছিল রাজ্য রাজনীতি তথা দেশীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচনার কারণ। কিন্তু নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলার মসনদ দখল করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
আর তারপর ফের কেন্দ্রীয় নিশানায় রাজ্যের শাসক দল। আজ সকালে নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন তৃণমূলের ৩ নেতামন্ত্রীসহ ৫ জন।
আর এই গ্রেফতারির ঘটনায় আদালতে সওয়াল করার আগে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপালকে অসাংবিধানিক ভাষায় আক্রামণ করেন তিনি। এমনকী রাজ্যপালের বদল চাই বলে দাবিও তোলেন তিনি।
এদিন তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সিবিআই রাজ্যপালের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তিনি সেই অনুমতি দিয়েছে। কেনও মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী গ্রেফতার হলেন না ঘটনায়? কেনও চার্জশিটে তাঁদের নাম নেই? ইচ্ছাকৃতভাবে বিজেপির লোকেদের গ্রেফতার করছে না’।
এরপরই রাজ্যপালকে নিজের নিশানায় নেন কল্যাণ। বেলাগাম আক্রমণ করে বলেন, ‘রাজ্যপাল একজন রক্তচোষা, প্রতিহিংসাপরায়ণ। কী ভাবে জেলে পুরতে হয় সেজন্য রাজ্যপাল ব্যস্ত হয়ে রয়েছেন। উনি এখন সম্পূর্ণ চেষ্টা করছেন ২০২৪ সালে যেনও রাজস্থান থেকে টিকিট পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছে রাজ্যপাল তা সহ্য করতে পারছেন না। অমিত শাহ্ ও নরেন্দ্র মোদীকে উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপিকে যে কোনও উপায়ে বাংলায় নিয়ে আসবো।’
আরও পড়ুন- বিজেপি করে বলে শুভেন্দু-মুকুলের সাত খুন মাফ! যত দোষ ফিরহাদ-মদনের? ফুঁসছে তৃণমূল শিবির!
এরপর সপাট রাজ্যপালকে তিনি বলেন, ‘উনি তো ওঁদের চাকরবাকর। সেই কাজে উনি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মানুষ যখন তাঁর উদ্দেশ্য পূরণে রায় দেয়নি তখন পিছনের দরজা দিয়ে বেআইনিভাবে রাজ্যপাল এই কাজ করছে।’
এদিন রাজ্যপাল বদলের দাবিও তোলেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, ‘এই রাজ্যপালের এক মিনিট থাকা উচিত নয়। এই রাজ্যপাল পাগলা কুত্তার মতো ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কোনও উপায়ে রাজ্যপাল বদল চাই।’





