রাজনীতি যে শুধুমাত্র জনসমর্থনের খেলা নয়, বরং কৌশল ও পরিকল্পনার মঞ্চ, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে কখন, কে, কোন দলে যোগ দেবেন বা কার সঙ্গে হাত মেলাবেন—তা আগে থেকে বলা কঠিন। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত চরিত্র। একসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে রাজনীতিতে নিজের জায়গা পাকা করা কেজরিওয়াল, বর্তমানে নিজেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রে। দিল্লির মসনদ থেকে তাঁর দলের পরাজয়ের পর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের বিজেপি নেত্রী লক্ষ্মীকান্ত চাওলার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দিল্লিতে একসময় আম আদমি পার্টির দাপট ছিল। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি-র কাছে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে কেজরিওয়ালের দল। অন্যদিকে, পঞ্জাব এখনও তাঁদের হাতে থাকলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ সেখানে তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়ালের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি কেজরিওয়াল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলতে চলেছেন? বিজেপি-র সঙ্গে তাঁর সমঝোতা হতে পারে? আর যদি তা হয়, তবে এই সিদ্ধান্ত আম আদমি পার্টির ভবিষ্যতের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে?
দিল্লির পরাজয়ের পর বেশ কিছুদিন কার্যত আড়ালে ছিলেন কেজরিওয়াল। কিন্তু শনিবার হঠাৎই পঞ্জাবের অমৃতসরে হাজির হন তিনি। জানা গিয়েছে, ১০ দিনব্যাপী ধ্যান শেষে তিনি সেখানে পৌঁছন। তবে পঞ্জাবে গিয়ে সরাসরি বিজেপি নেত্রী লক্ষ্মীকান্ত চাওলার সঙ্গে দেখা করায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লক্ষ্মীকান্ত চাওলা শুধু বিজেপি নেত্রীই নন, তিনি পঞ্জাবের প্রাক্তন মন্ত্রীও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি-র সঙ্গে সমঝোতার জন্যই কি এই সাক্ষাৎ? যদিও এ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি আম আদমি পার্টির তরফে।
কেজরিওয়াল ও লক্ষ্মীকান্ত চাওলার সাক্ষাৎ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দিল্লির মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা মনজিন্দর সিংহ সিরসা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “যদি অরবিন্দ কেজরিওয়াল হতাশা থেকে নতুন রাস্তা খুঁজছেন, তবে বিজেপি কখনও তাঁকে গ্রহণ করবে না।” অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ রামবীর সিংহ বিদুরির দাবি, “উনি কার সঙ্গে দেখা করছেন, তা একান্তই ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়।” যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাক্ষাৎ নিছকই সৌজন্যমূলক ছিল না। বরং পঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ গঠনের সূচনা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গ বিজেপিতে বড়সড় রদবদল! সুকান্ত অধ্যায় শেষ? নতুন সভাপতি নিয়ে চূড়ান্ত টানাপোড়েন!
এই মুহূর্তে কেজরিওয়াল রয়েছেন পঞ্জাবের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দরবীর নিজ্জরের বাড়িতে। রবিবার তাঁর স্বর্ণমন্দিরে যাওয়ারও কথা রয়েছে। পাশাপাশি, ১৮ মার্চ অমৃতসরে এবং পরবর্তী সময়ে লুধিয়ানায় জনসভা করবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে হারের পর কেজরিওয়াল এখন পঞ্জাব থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু বিজেপি-র সঙ্গে তাঁর সমঝোতা আদৌ সম্ভব কি না, তা সময়ই বলবে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যে জাতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই যায়।





