একসপ্তাহ আগে খবর ২৪×৭ একটি খবর প্রকাশ করেছিল, “নিখোঁজ ১ কোটি ৫০ লক্ষ চীনা, প্রশ্নের মুখে চীন সরকার“। খবরটি ৯৯০০০টি শেয়ার হয়। এই সংবাদকে ভুয়ো ও আমাদের প্রতিষ্ঠানের সত্যতা নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন। যেহেতু আমরা আমাদের প্রতিটি পাঠকের কাছে দায়বদ্ধ, তাই আমরা এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই।
আমরা আমাদের খবরের সোর্স বা উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে তবেই খবর প্রকাশ করি। যদি আমরা ভুয়ো খবর দিয়ে থাকি তাহলে ব্লুমবার্গ ও ইকোনমিক টাইমসও ভুয়ো খবর দেয় বলে মানতে হবে। কারণ তারাও ঠিক একই বিষয়ে খবর করেছে। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে।

এই খবরে লেখা হয়েছিল, চীন সরকার করোনা আক্রান্তের মৃত্যু নিয়ে তথ্য গোপন করেছে, অর্থাৎ মৃত্যু হয়তো অনেক বেশি! সেটি কিছু ব্যক্তিরা মানতে পারছেন না। কেন? আপত্তিটা কোথায়? মারা যে যায়নি তার কোনো প্রমাণ ইনি দেখাতে পারবেন? চীনে দুমাসে দেড় কোটি গ্রাহকের সিম ইনঅ্যাক্টিভ থাকলে তাঁরা কোথায় গেল সে নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। তাই নিখোঁজ শব্দটি আমরা ব্যবহার করেছি। এই দেড় কোটি মানুষ মারা গিয়েছেন সেটি কি আমরা কোথাও লিখেছি? দেড় কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী গেলেন কোথায়? চীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই প্রশ্ন তোলাটাই কি আমাদের ভুল?

এই ব্যক্তিরা মোবাইল সংস্থাগুলির নাম জানতে চেয়েছিলেন। আমরা সেই তথ্যও এই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি, সংস্থাগুলি হল, চীনা টেলিকম কর্পোরেশন, চীনা মোবাইল ও চীনা ইউনিকম হংকং লিমিটেড। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুইমাসে চীনা টেলিকম ৫.৬ মিলিয়ন গ্রাহক, চীনা মোবাইল ৮.১১৬ মিলিয়ন গ্রাহক ও চীনা ইউনিকম ১.১৮৬ মিলিয়ন গ্রাহক হারিয়েছে। যদিও এই সংখ্যা বর্তমানে আরও অধিক হয়ে গেছে। চাইলে আপনারা সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানি গুলির তথ্যগুলি ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারেন। এটিও আমরা আপনাদের জানাতে চাই যে আমরা খবরটি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা থেকেই পেয়েছি। না, চীনে কোনো প্রতিনিধি আমরা পাঠাতে পারিনি। আর আমাদের প্রকাশিত খবরের শেষে এটা লেখা হয়নি, চীনের ভেতরের খবর নাকি বাইরে আসে না। সেখানে বলা হয়েছে চীনা মিডিয়ার কোনো স্বাধীনতা নেই। চীনে পিপলস ডেইলি বাদে আর কোনো সংবাদপত্রের নাম বলতে পারবেন যারা নিরপেক্ষ বা সরকার বিরোধী সংবাদ প্রকাশ করে? চীনের মিডিয়াকে সরকারের কথা শুনে চলতে হয় সেটা প্রমাণিত সত্য। চীনের সর্ববৃহৎ সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি-কেও সরকারের কথা শুনেই চলতে হয়। জেনিফার জেঙ্গ নামে এক চীনা মানবাধিকার কর্মীই এই বিষয়ে প্রথম আলোকপাত করেন। তিনি এর আগেও সরকার বিরোধী মতবাদের জন্য চারবার গ্রেফতার হয়েছেন। তথ্যগুলো রইল আপনাদের জন্য।

বাকি রইল, ব্যক্তিগত আক্রমণ। আমাদের কর্মী অন্তরা ব্যানার্জিকে কুরুচিকর আক্রমণ না করলেই হয়তো ভাল হত। তিনি আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী তাই তার অবমাননা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। কনটেন্ট রাইটার কী ও তাদের কীভাবে পেমেন্ট করা হয় সেটা বিশদে জানানোর জন্য পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ। কিন্তু জানিয়ে রাখা প্রয়োজন, আমাদের যেকজন কর্মী সংবাদ লেখেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সাংবাদিকতা ক্ষেত্র থেকে উঠে এসেছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হাউসে কাজ করেছেন। উপরন্তু তাঁরা এই বিষয়ে পড়াশোনাও করেছেন বা করছেন। তাই তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে দু’বার ভাবা দরকার। আর আমরা রীতিমত পরীক্ষা নিয়ে তাদেরকে বাছাই করেছি। যে কোনো খবরই কনটেন্ট। এটা আপনাদেরও মাথায় রাখতে হবে। আমাদের কর্মীরা যথেষ্ট পড়াশোনা করে তবেই এক একটি প্রতিবেদন লেখেন। পোস্টদাতার কথামত এঁনারা “বিভিন্ন সূত্র থেকে খোঁজ নিয়ে, ক্রস চেক করে, তারপর লেখেন রিপোর্ট?” প্রতিটা মিডিয়া হাউসের কপি রাইটাররাও সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এই বিষয়টা বুঝতে হবে।

তাহলে আমরাও কিছু সাধারণ প্রশ্ন করি। সেগুলোর উত্তর দেওয়া হোক-
১. কী করে শুধু উহানেই করোনা ভাইরাস আটকে থাকল? পাশাপাশি অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বেজিং, সাংহাই বা হংকং এ কোনো আঁচ পড়ল না। কীভাবে? চীনে লকডাউন তৃতীয় পর্যায়ের পরে করা হয়েছে।
২. সারা বিশ্ব জুড়ে বন্ধ সবকিছু। চীন কী করে এত স্বাভাবিক? কারণ এখনও করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এছাড়াও রয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
কিছু কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন বন্ধুরা মনে করছেন আসল তথ্য গোপন করা হচ্ছেনা চীনে। তারা ভারতে বসে দেশের বা রাজ্যের কী অবস্থা সেটা চিন্তা না করে, চীন সরকারকে কেন কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে সেই নিয়ে বেশি চিন্তিত। দেশ আগে না আইডিওলজি আগে? এইরকম মনোভাবাপন্ন মানুষদের আমরা ধিক্কার জানাই। যদিও প্রচুর পাঠকরা আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন এবং আমাদের বার্তা পাঠিয়েছেন সঙ্গে থাকার। এই পাঠকদের কথা ভেবেই আমরা এবার থেকে করোনা বিষয়ে চীনের একাধিক তথ্য তুলে ধরব। বাকিটা বিচার করবেন আমাদের দশ লক্ষাধিক পাঠক।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা রীতিমত লড়ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসকে অতিমারি ঘোষণা করেছে। ছয় লক্ষ মানুষ আক্রান্ত, ৩১ হাজার মৃত। ভারতে ১০০০ ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। কলকাতায় আক্রান্ত সংখ্যা ২০ ছুঁয়েছে। মারা গিয়েছেন ২ জন। সেখানে দায়িত্ব নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়াব, এত অপেশাদার আমরা নই।





