ফের চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীর মৃ’ত্যুর অভিযোগ উঠল খাস কলকাতায়। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জন্য ছেলেকে হারিয়ে চিকিৎসকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন সন্তানহারা মা-বাবা। তাদের ছেলের মৃ’ত্যুর পিছনে ভুল চিকিৎসাই দায়ী বলে অভিযোগ ওই বৃদ্ধ দম্পতির। সুবিচার পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই দম্পতি। তবে এবার চিকিৎসককে হাতের নাগালে পেয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তারা।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জানা গিয়েছে মৃ’ত যুবকের নাম দীপঙ্কর পাল। বয়স ২৩ বছর। ক্যানসারে ভুগছিলেন ওই যুবক। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ওই যুবককে। ২৩ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর ২৯ নভেম্বর মৃত্যু হয় যুবকের।
কী দাবী মৃ’ত যুবকের বাবার?
সন্তানহারা বাবা দেবাশিস পালের অভিযোগ, “ছেলের চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি করে চারটি উচ্চমাত্রার কেমো দেওয়া হয়। তাতেই মৃত্যু হয় দীপঙ্করের। এই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দফতরে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করেছি। তাই বুধবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমাদের ডেকে পাঠানো হয়”।
এদিন হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা: স্বর্ণবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা হয়। চিকিৎসককে সামনে দেখে আর নিজেদের ক্ষোভ সামলে রাখতে পারেন নি বৃদ্ধ দম্পতি। চিকিৎসককে তাড়া করতে থাকেন সন্তানহারা মা-বাবা। আর চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আপনি আমার ছেলেকে মেরেছেন। আপনাকে ছাড়ব না। আজ আমরা নিঃস্ব হয়েছি”।
এমন ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায় সেখানে উপস্থিত লোকজন। মেডিক্যাল কলেজের সুপারের বিল্ডিংয়ে দৌড়তে থাকেন সকলে। এমন কাণ্ড যে ঘটতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেন নি কেউ। চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে সন্তানহারা মা-বাবার আর্তনাদে চোখে জলও আসে সেখানে উপস্থিত অনেকের।
ওই অভিযুক্ত চিকিৎসককে একবার হাতের নাগালে পেয়ে নিগ্রহও করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও দেবাশিস পাল ও তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন যে তারা মা’র’ধ’র করেননি। এই গোটা বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনে জানানো হয়েছে বলে খবর।





