কয়েকদিন আগেও এক মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে ঝামেলা বেঁধে ছিল বাঙ্গুর হাসপাতালে। আবার সেই এই ঘটনা নিয়ে সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিল হাসপাতাল চত্ত্বরে।
দিন কয়েক আগে পুরী ফেরত এক রোগীর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর তার লালারসের পরীক্ষা করতে পাঠানো হয় কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা যান। তারপরই সৃষ্টি হয় জটিলতা। পরে অবশ্য ৪৮ ঘণ্টা পর মৃতদেহ পোড়ানো হয় ধাপার মাঠে। যে স্থানে করোনায় মৃতদের পোড়ানোর আলাদা বন্দোবস্ত করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
এবার রবিবার বাঙ্গুর হাসপাতালে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। যাঁর বাড়ি সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের কাছে। তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখাও হয়েছিল।এরপর আজই মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের দাবি, তার মৃত্যুর পর নাকি লালারসের থেকে নমুনা নিয়ে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সমস্যা হল, পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃতদেহকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে চাইছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মৃতের বাড়ির লোকেরা জানান, গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জ্বর আর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তাঁর বাবা। ফুসফুসের সমস্যাও ছিল। এরপর গত ৩০শে মার্চ বেলেঘাটা আইডিতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখান থেকে তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও তাঁকে ভরতি নেওয়া হয় না বরং ওষধু দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই তাঁরা বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু দিন কয়েক পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে প্রৌঢ়কে নিয়ে তার পরিবার এমআর বাঙ্গুরে আসেন। সেখানে তাঁকে দেখেই ভরতি নেওয়া হয় এবং আইসোলেশনে রাখা হয় । কিন্তু পরের দিনই সব শেষ।
প্রৌঢ়ের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকেরা। তাঁদের অভিযোগ, মৃতদেহ থেকেই নমুনা সংগ্রহ করে কেন টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে? জীবিত অবস্থায় কেন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হল না? কেনই বা আর জি কর তাঁকে ভরতি নিল না?
এক সদস্য বলেন, “প্রৌঢ়ের ব্রঙ্কাইটিস বলে চালিয়ে আর জি কর আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিল। আমাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়নি। এখন যদি মৃতের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাহলে আমাদের কি হবে?” অন্যদিকে, ওই ব্যক্তিকে যে ভরতি নেওয়া উচিত ছিল আর জি করের, তা স্বীকার করে নিয়েছে বাঙ্গুর কর্তৃপক্ষ। মৃত ব্যক্তির মৃত্যর কারণ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে হাসপাতাল চত্ত্বরে।





