Mamata banerjee : “তৃণমূল করতে না চাইলে অন্য দলে যান”—এসআইআর ঘিরে মমতার বিস্ফোরক বার্তা, দলের ভিতরে কি ভাঙনের ইঙ্গিত?

রাজনৈতিক লড়াই মানেই শুধু মঞ্চের ভাষণ বা স্লোগান নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরীক্ষাও। ভোটের আগে সেই পরীক্ষাতেই এবার দলীয় নেতাদের নামাতে চাইছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যে যখন বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি, ঠিক তখনই দলের অন্দরমহলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া বার্তা শোনা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের সমস্যা উপেক্ষা করলে আর কোনওরকম রেয়াত নেই।

মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের নেতাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন। মঞ্চে বসা সভাপতি, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, কোনওরকম অহঙ্কার বা ইগো তিনি সহ্য করবেন না। কেউ যদি নিজেকে দলের ঊর্ধ্বে ভাবেন, তা হলে একদিনেই তাঁকে বাদ দেওয়া হবে—সে যে পদেই থাকুন না কেন। তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল বিরক্তি এবং একইসঙ্গে ছিল কঠোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত।

এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধার প্রশ্ন। মমতা বলেন, মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি। তাঁর ভাষায়, এটি কোনও গোলাগুলির যুদ্ধ নয়, বরং ভোটাধিকারের জন্য লড়াই। তাই দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ, প্রতিটি মানুষের নাম তুলতে হবে, তাঁদের সাহায্য করতে হবে। যাঁরা এই দায়িত্ব নিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার দরকার নেই—এমন বার্তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, মমতার এই কড়া অবস্থানের ঠিক দু’দিন আগেই একই সুরে কথা বলেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন, যে পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধান মানুষের পাশে দাঁড়াবেন না, তাঁদের পদে থাকার কোনও অধিকার নেই। দলের উপর নজরদারি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ভালো কাজ করলে স্বীকৃতি মিলবে, কিন্তু দায়িত্বে গাফিলতি হলে তার ফল ভুগতে হবে—এই বার্তাই দিয়েছিলেন অভিষেক।

আরও পড়ুনঃ Abhisekh Banerjee speak on amit shah : “স্বাধীনতার পর সবচেয়ে অপদার্থ অমিত শাহ”—অমিত শাহকে সরাসরি কটাক্ষ অভিষেকের!

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে আর ‘পিকনিক মুড’ চলবে না। নেতৃত্বের কাছে এখন একটাই প্রত্যাশা—মাঠে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দলীয় পদ নয়, কাজই হবে মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড। মমতা ও অভিষেকের পরপর কড়া বার্তায় তৃণমূলের অন্দরে যে নতুন করে চাপ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য। এবার দেখার, এই সতর্কবার্তার পর নেতারা কতটা সক্রিয় হন এবং তার প্রভাবই বা কতটা পড়ে ভোটের ময়দানে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles