Amit Shah : “শুভেন্দুর নামেই ভয় মমতার!” কলকাতায় দাঁড়িয়ে চরম আক্রমণ অমিত শাহ-র!

নিউটাউনের পথঘাট রবিবার সকাল থেকেই ছিল জমজমাট। গাড়ির সারি, পোস্টার-ফ্লেক্সে ভরা রাস্তাঘাট আর পুলিশের কড়া নজর—সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছিল, শহরের বুকে আজ কিছু একটা হতে চলেছে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের দিকে পা বাড়াচ্ছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। কেউ দলে দলে যাচ্ছে, কেউ আবার মোবাইলে লাইভ চালিয়ে চিৎকার করে বলছে, “আজ দাদারা এসেছেন, এবার বাংলা পাল্টাবেই!” চারপাশে শুধু উত্তেজনা, আগ্রহ আর কৌতূহল। কে কী বলবেন, কী বার্তা দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা—তা শুনতেই তো ছুটে এসেছেন এত মানুষ।

মঞ্চে একে একে বসেছেন রাজ্য বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। অমিত শাহর ঠিক পাশে ছিলেন সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী। পিছনের সারিতে নজরে পড়ে কালিয়াগঞ্জ উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী আশিস ঘোষকেও। নেতৃত্বের উপস্থিতি যেমন ছিল নজরকাড়া, তেমনি দর্শকাসনে বসা সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও ছিল আলাদা উৎসাহ। মঞ্চে উঠেই অমিত শাহ হাত তুলতেই চিৎকারে ফেটে পড়ে গোটা ইন্ডোর। আর তারপরই শুরু হয় তাঁর বিখ্যাত আগ্রাসী ভঙ্গিমায় বক্তৃতা।

ভাষণের শুরুতেই অমিত শাহ যে তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করবেন, তা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু এদিন তিনি শুধু তোপ দাগলেন না, বরং আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে বললেন, “বিধানসভায় শুভেন্দু দাঁড়ালেই দিদির গলায় কাঁপন ধরে যায়।” বক্তব্যে উঠে আসে হিংসার প্রসঙ্গও। বলেন, “গণতন্ত্রে হিংসার কোনও জায়গা নেই। ভোট হোক শান্তিতে, তাহলেই বোঝা যাবে বাস্তবটা কী।” বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক কৌশল আর কটাক্ষের এক মিশ্রণ। তবে এখানেই থেমে যাননি তিনি।

২০২৬ সালের ভোটে যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, সেই দাবি জোর গলায় করেন শাহ। বলেন, “ভোটের পর যারা আমাদের কর্মীদের খুন করেছে, তাদের কেউ ছাড় পাবে না। যেখানেই থাকুক, খুঁজে খুঁজে শাস্তি দেব আমরা।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, শুধু নির্বাচনী প্রচার নয়, অতীতের ‘হিংসার’ হিসেব চুকোতেও প্রস্তুত বিজেপি। সভায় বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক খুন, সন্ত্রাস ও ‘শুভেন্দুর নেতৃত্বে পরিবর্তনের’ বার্তা। আগামী ভোটে যে বিজেপির পরিকল্পনা কতটা আগেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে, তা বোঝাতে চাইলেন শাহ।

আরও পড়ুনঃ Eid : সেনাবাহিনী নিষেধাজ্ঞা, এই বছর রেড রোডে ঈদের প্রধান জমায়েত হবে না!

বক্তব্যের একদম শেষভাগে উঠে এল আন্তর্জাতিক সাফল্য ও ধর্মীয় প্রসঙ্গ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিক্রিয়া এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু সংস্কৃতি অপমান করছেন। মুসলিমদের তুষ্ট করতে সিঁদুর নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। আর মোদী সরকার পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারতের শক্তি কাকে বলে।” একদিকে যেমন দেশরক্ষায় মোদী সরকারের প্রশংসা, অন্যদিকে রাজ্যে ‘তুষ্টিকরণ’ নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ—সাধারণ ভোটারদের আবেগকে ছুঁয়ে যেতে যে এই বক্তৃতা সাজানো, তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles