বরানগরের নির্বাচনী প্রচারে শনিবার রাতের ঘটনার কারণে শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে প্রচারণা ঘিরে হাতাহাতি শুরু হয়। সজল ঘোষের পোস্টারের স্থানেই সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sayantika Banerjee) পোস্টার লাগানোর চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে স্লোগান পালটা স্লোগান চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নেমে আসতে হয়। ঘটনার সময় তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই সংঘর্ষের অংশ ছিলেন।
ঘটনার মূল কারণে হলো ভোট প্রচারের সময় সজল ঘোষ সায়ন্তিকাকে উদ্দেশ্য করে মাইকে ‘গো ব্যাক’ ধরনের স্লোগান দেন। এরপর তিনি অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ঘটনাটি তখনই মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল শিবির এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানায়। সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি শুধুই তার অপমান নয়, বরং বাংলার প্রতিটি নারীর অপমান।
সায়ন্তিকা আরও বলেন, “বরানগরের মানুষ আজকের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। জনসমক্ষে মিডিয়ার সামনে বিজেপি প্রার্থী আমাকে লক্ষ্য করে যে কুরুচিকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাঁরা নারীদের সম্মান জানে না, তারা জনসেবা করার যোগ্য নয়। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সকল মহিলাদেরও সতর্ক করেছেন এবং এই ধরনের ‘নারীবিদ্বেষী শক্তি’ চিনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিপক্ষের প্রতিক্রিয়ার বিষয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিজেপি শিবির এই ঘটনা নিয়ে বিষয়টি ‘মুখ ফসকে গিয়েছে’ বলে হালকা করার চেষ্টা করেছে। তবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে সজল ঘোষের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। ভোটাররা এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করবে না বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে সবার নজর কেড়ে নিয়েছে এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড় করিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘পাখির চোখ’ বাংলা! মোদীর রোড শো থেকে নিতিন নবীনের সাংগঠনিক বৈঠক – ভোটের আগে কোমর বেঁধে ময়দানে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব!
তৃণমূল শিবির এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামাতে হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখেছে। এখন ভোটাররা এই ঘটনার প্রতিফলন ভোটে কিভাবে দেখাবে, তা নজর দেওয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিকরা মনে করছেন, নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ রাজনৈতিকভাবে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।





