রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বাড়ছে। শাসক-বিরোধী সব শিবিরই এখন ময়দানে নামতে প্রস্তুত। বিশেষ করে বাংলাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতির আগ্রহ এবার যেন আরও কয়েকগুণ বেশি। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা—এই রাজ্যের ফলাফলই অনেকটা ঠিক করে দিতে পারে ভবিষ্যতের সমীকরণ।
এই আবহেই বাংলাকে ‘পাখির চোখ’ করে এগোচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, খুব শিগগিরই রাজ্যে আসতে পারেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যে এসে সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য হতে চলেছে।
খবর অনুযায়ী, বিজেপির রাজ্যজুড়ে থাকা ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করতে পারেন নিতিন নবীন। জোনভিত্তিক এই বৈঠকে দলের শক্তি, দুর্বলতা এবং ভোটের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর চূড়ান্ত সূচি রাজ্য নেতৃত্বের হাতে পৌঁছায়নি, তবে সম্ভাবনা রয়েছে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েই তিনি বাংলায় পা রাখবেন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে উত্তরবঙ্গে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, ৭ বা ৮ এপ্রিল শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে তাঁর রোড শো ও জনসভার পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যেই সুনীল বনসল ও ভূপেন্দ্র যাদব সেখানে বৈঠক করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। শোনা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গে মোট চারটি সভা করতে পারেন মোদী, যা ভোটের আগে বড় বার্তা দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ “আমেরিকা পাকিস্তানে হাম*লা করলে ভারতে পরমাণু আঘাত করা উচিত”, দূরত্বের যুক্তি তুলে ধরে দিল্লি-মুম্বইকে টার্গেট করার ইঙ্গিত, প্রাক্তন পাক হাইকমিশনারের মন্তব্যে চাঞ্চল্য!
এদিকে, বিজেপি এবার ‘২০০-র বেশি’ আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই প্রচার চালাচ্ছে। অমিত শাহ একাধিক সভায় এই লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রীও পাল্টা ২২৬ আসনের লক্ষ্য ঘোষণা করে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান এখন চরম উত্তেজনায় ফুটছে।





