কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, এবার সেই কথাই সত্যি হল। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে এ বছর দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের মঠে প্রবেশ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।
এই বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১১৯ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোয় এই প্রথম এমন কনপ পদক্ষেপ নেওয়া হল। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে এই পুজোর সুচনা করেছিলেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত মঠের মূল মন্দিরের ভিতরেই দুর্গাপুজো হত। পরে তা বাইরের প্রাঙ্গণে আয়োজিত করা হয়। এর ফলে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে দিন দিন। তবে এই বছর সব দিক বিবেচনা করে ফের মূল মন্দিরের ভেতরেই ফিরে যাবেন মা, এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অতিমারির কথা চিন্তা করেই এ বছর পুজোয় মঠে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনও প্রকার প্রসাদ বিতরণও করা হবে না এই বছর। বেলুড় মঠের দুর্গাপুজোর প্রধান আকর্ষণ হল কুমারী পুজো। সেই চিরাচরিত নিয়ম মেনে হবে কুমারী পুজো ও সন্ধিপুজো। তবে এই ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। প্রতি বছর কুমারীকে সন্ন্যাসীরাই কোলে করে পুজোর আসনে অধিষ্ঠান করতেন। কিন্তু এই বছর এই কাজটি করবেন সংশ্লিষ্ট কুমারীর পরিবারের সদস্যরাই।
তবে, দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও ভক্তদের মনে যাতে কোনও ক্ষেপ না থাকে তাই পুজোর সব দিন মায়ের পুজো সরাসরি দেখা যাবে বেলুড় মঠের নিজস্ব ওয়েবসাইটে। সেখানেই হবে লাইভ টেলিকাস্ট। তাছাড়া, দূরদর্শনেও প্রতিবারের মতো বেলুড় মঠের পুজোর সম্প্রচার হবে নিয়ম মেনেই।
প্রসঙ্গত, অতিমারির কারণে গত মার্চ মাসের ১৫ তারিখ বন্ধ হয়ে যায় বেলুড় মঠ। লকডাউনের পর ১৫ই জুন মঠ খুলে দেওয়া হয় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই মঠের বেশ কিছু সন্ন্যাসী ও কর্মচারীদের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় ফের ২রা আগস্ট থেকে মঠ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন মঠ কর্তৃপক্ষ।





