লোভে পাপ,পাপে মৃত্যু। বাঙালি এই কথাটা কিছুতেই বুঝতে চায় না। যতবার তারা বিপদে পড়ে ততবার তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় গালা’গালি করে কিন্তু তবুও তাদের শিক্ষা হয় না। প্রবাদ বাক্য আছে যে ন্যাড়া বেলতলায় একবার যায় কিন্তু বাঙালি বেলতলায় ১০ বার করে যাবে।
হঠাৎ প্রতিবেদনের শুরুতেই এত সমালোচনা কেন? তার কারণ সম্প্রতি কলকাতায় এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জায়গায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে। আপনারা সকলেই মোটামুটি ভূতের রাজা দিল বর রেস্টুরেন্টের নাম শুনেছেন। কলকাতায় দুটো জায়গায় আউটলেট আছে এবং পশ্চিমবঙ্গের আরো তিনটি জায়গায় এর আউটলেট খুলেছেন। সম্প্রতি এরা নিজেদের কাস্টমারের সঙ্গে যে ব্যবহারটা করেছেন সেটা খুবই নিকৃষ্ট বলে মত ভুক্তভোগী গ্রাহকদের।
সম্প্রতি 17 বছরে পা দিলো এই প্রতিষ্ঠান। সেই উপলক্ষে নিজের গ্রাহকদের জন্য একটি অফার এনেছিল ভূতের রাজা দিল বর সেটি হল 170 টাকায় 17 টি পদ। এই নিয়ে তাঁরা জোরদার প্রচার করেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় তবে যে দিন ছিল ভূতের রাজা দিল বর এর জন্মদিন সেদিনই ঘটে গেল বিপত্তি।
সকাল থেকেই বিভিন্ন আউটলেট এর বাইরে পড়েছিল লম্বা লাইন। সকলেই 170 টাকায় 17টা পদ খাওয়ার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিলেন।কিন্তু কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত মিস ম্যানেজমেন্ট এর জন্য অধিকাংশ লোক বেলা তিনটে পেরিয়ে গেলেও খেতে পাননি। বিশেষ করে হুগলির চন্দননগর এবং কলকাতার যাদবপুরের আউটলেটের অবস্থা ভয়াবহ ছিল। এছাড়াও সল্টলেকের আউটলেটেরও কিন্তু খুব একটা সুনাম হয়নি। যদিও এই ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়, এর আগেও পুজোর সময় চন্দননগরের আউটলেটে ক্রেতাদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করেছিল কর্তৃপক্ষ।
সব থেকে বড় কথা এই নিয়ে যখন কেউ তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে যে নেগেটিভ রিভিউ গেছে তাদের কমেন্টগুলি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে হয় লুকিয়ে ফেলা হচ্ছে নয় মুছে দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুকে যেসব ফুড গ্রুপের সঙ্গে ভূতের রাজা দিল বরের জনসংযোগ রক্ষাকারী সম্পর্ক রয়েছে সেখানে যদি কেউ ভূতের রাজা দিল বরের বিরুদ্ধে নেগেটিভ রিভিউ দেন তাহলে সেখানে তাকে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে গ্রুপ থেকে।
আমরা সকাল থেকেই ভূতের রাজা দিল বর সম্বন্ধে প্রচুর অভিযোগ পেয়েছি। সেইসঙ্গে বেশকিছু নেটিজেনের কমেন্ট আমরা অনুসন্ধান করে তুলে এনেছি। অনন্যা পালিত নামে একজন লিখেছেন যে তিনি সল্টলেক সেক্টর ফাইভ আউটলেটে গেছিলেন। 11:45 থেকে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তিনটের সময় তাকে জানানো হয় যে কুপন পাওয়া যাবে না। তবে তিনি বুদ্ধি করে উল্টো দিকে সিক্স বালিগঞ্জ প্লেসে জায়গা বুক করে ফেলেছিলেন এবং সেখানেই তিনি তৃপ্তি করে খেয়েছেন।
এ ব্যাপারে আমরা ভূতের রাজা দিল বর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম এবং আমাদের প্রতিনিধি তাদের প্রত্যেকটা আউটলেটে ফোন করে। সল্টলেকের একটি ফোন নম্বরে ফোন করলে আমাদের প্রতিনিধির ফোন কেটে দেওয়া হয়, বাকি নম্বরগুলো সুইচড অফ। চন্দননগরে আউটলেটে ফোন কেটে দেওয়া হয়, বাকি আউটলেটের নম্বর সব সুইচড অফ।
ভূতের রাজা দিল বর রেস্টুরেন্ট এর কর্ণধার রাজীব পাল এর একটি ভিডিও আমরা পেয়েছি যেখানে তিনি বড় মুখ করে বলছেন যে তারা এইদিন তো ব্যবসা করেন নি। আমাদের তরফ থেকে একটাই প্রশ্ন তাহলে কি তারা বিনামূল্যে সকলকে খাওয়াচ্ছিলেন? সকলের কাছ থেকে 170 টাকা নিয়েই খাওয়ানো হচ্ছিল। এই 170 টাকা নিয়ে 17 টি পদ দেওয়া এটা কি একটি ব্যবসায় স্ট্র্যাটেজি নয় প্রচুর লোক নিয়ে আসার জন্য? উত্তর জনগণই জানে আর জানেন রেস্তোরাঁর মালিক।





