নাগরাকাটায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার স্থানীয়ভাবে ত্রাণ বিলির কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন বিজেপির সাংসদ খগেন মূর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর অজ্ঞাতদূষ্কৃতীরা হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকলেও হামলার ছবি ও পরিস্থিতি সকলকে শকপ্রদ। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশের সামনেই হামলা হয়েছে, অথচ তারা নিরব থেকেছে। তার পরও প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনও এফআইআর রুজু হয়নি। এমনকি প্রথমে গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের নামও এফআইআরে ছিল না। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে পুলিশি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বুধবার সাহানুর আলম ও তোফায়েল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের নাম FIR-এ ছিল না। এরপর বৃহস্পতিবার আরও দু’জন—একরামূল হক ও গোবিন্দ শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়। আহত সাংসদ খগেন মূর্মুর চোখের নিচের হাড় ভেঙে গেছে এবং শঙ্কর ঘোষও গুরুতর জখম হয়েছেন। একজন এখন উত্তরবঙ্গের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর অন্যজন দু’দিন পর ছুটি পেয়েছেন, তবে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতৃত্ব কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছে। দলের আইনজীবী ময়ুখ মুখোপাধ্যায় আদালতের মাধ্যমে আবেদন করেন এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায় সেই অনুমতি দেন। শুনানি হতে পারে আগামী ১৪ অক্টোবর। বিজেপি নেতারা বলেন, “এটা শুধু আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।” সেই কারণে তারা এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
আরও পড়ুনঃ Donald Trump : হোয়াইট হাউসের পোস্টে ‘দ্য পিস প্রেসিডেন্ট’ বলা হল ট্রাম্পকে! এবার কি তার হাতে আসতে চলেছে নোবেল শান্তি পুরস্কার?
এই ঘটনার পর রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুলিশি তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সড়ক থেকে আদালত পর্যন্ত আলোচনা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ১৪ অক্টোবর হাইকোর্টের শুনানিতে তদন্তের দায়িত্ব কি রাজ্য পুলিশের হাতেই থাকবে, নাকি কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএকে দায়িত্ব নিতে হবে। সাধারণ মানুষও এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে, কারণ এটি শুধুমাত্র দুই জনপ্রতিনিধির নয়, পুরো রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।





