রাজ্যের শিক্ষা অঙ্গনে ফের অস্থিরতা। একদিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতাকে সেন্সর করার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি কটাক্ষ, দু’পক্ষের এই টানাপোড়েন ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সবার চোখ এখন ঘুরছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তীকে সমস্ত সাংগঠনিক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। উপাচার্য শান্তা দত্তের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সেন্সরের সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে এটা কি শুধুই শৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য?
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ফল বলেই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি জানি না ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একজন ছাত্রকে এভাবে সেন্সর করা যায় কি না।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্কিং-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দিন দিন খারাপ হচ্ছে, অথচ ছাত্রদের লক্ষ্য করে টার্গেট করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ছাত্র সমাজের জন্য ‘কলঙ্কজনক’ বলে অভিহিত করেন।
কেবল এখানেই থেমে থাকেননি শিক্ষামন্ত্রী। শান্তা দত্তকে আক্রমণ করে তাঁর কটাক্ষ, “কাক ময়ূরের পুচ্ছ পরলেই ময়ূর হয় না।” এর আগে তিনি উপাচার্যকে ‘টুনটুনি-ময়না’ বলে কটূক্তি করেছিলেন। এমনকি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও তির্যক মন্তব্য করেছিলেন ব্রাত্য। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্যের সম্পর্ক আগেই টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল, নতুন ঘটনাটি সেই দ্বন্দ্বকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ Maoist Commander Sujata : চার দশকের গেরিলা লড়াই শেষ! মাথার দাম ১ কোটি সেই মাওবাদী নেত্রী এখন পুলিশের হাতে!
এই চাপানউতোরের শুরু কয়েক সপ্তাহ আগে, পরীক্ষার দিন পিছনো নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধ সত্ত্বেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন পরীক্ষা পিছাননি শান্তা দত্ত। এরপর থেকেই শুরু হয় কটাক্ষবাণ। অভিরূপ সরাসরি উপাচার্যের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে ‘রাক্ষসী’ বলেও আক্রমণ করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই আসে সেন্সরের সিদ্ধান্ত। ফলে বিরোধী দলগুলি এখন অভিযোগ তুলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পরিণত হয়েছে। আর এই অবস্থার মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে এমন সিদ্ধান্তে সত্যিই কি শৃঙ্খলা ফিরবে, নাকি আরও গভীর হবে অস্থিরতা?





