গত পয়লা জুন থেকে ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এই লকডাউন শিথিল করার ফেজের নাম দেওয়া হয়েছে আনলক ওয়ান। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কলকাতা। গত সোমবার থেকে খুলে গেছে সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত অফিস, অবশ্য পুরো ১০০ শতাংশ কর্মী হাজিরা নিয়ে নয়। খুলে গিয়েছে দোকানপাট, শপিংমল ও রেস্তোরাঁ। রাস্তায় নেমেছে বাস থেকে অটো।
কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট হল নিউ মার্কেট। স্বাভাবিক সময়ে এসপ্ল্যানেড চত্বর মানে এই নিউমার্কেট এলাকায় থিকথিক করত ভিড়। কিছুদিন আগেই খুলেছে এই নিউমার্কেট। কিন্তু খোলার দিন কয়েকের মধ্যেই ঘনিয়ে এলো আশঙ্কার মেঘ। জানা গিয়েছে, নিউ মার্কেটের এক ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত। তার ফলে আপাতত নিউ মার্কেটের একাংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলছে জীবাণুমুক্ত করার কাজও।
বুধবার সন্ধ্যেবেলা হগ মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরা জানতে পারেন, একজন ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর হগ মার্কেটে দুধ এবং দুধজাতীয় জিনিসপত্র বিক্রির একটি দোকান রয়েছে। দোকানে আসা উপসর্গহীন কোনও ক্রেতার মাধ্যমেই তাঁর শরীরে করোনা সংক্রামিত হয়েছে বলেই দাবি আক্রান্ত ব্যবসায়ীর।
ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে গায়ে হালকা জ্বর ছিল তাঁর। সঙ্গে গলা খুশখুশ। তবে প্রথমে ওই উপসর্গ দেখে আমল দেননি তিনি। আচমকাই শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে তাঁর। একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। তিনিই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। রিপোর্ট হাতে আসার পরই জানা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত।
এই খবর জানার পরই ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সুরক্ষার স্বার্থে ই ব্লক এবং ই(এন) ব্লক বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণত হগ মার্কেটের ই ব্লকে কেক জাতীয় খাবারদাবার বিক্রি হয়। ই(এন) ব্লকে বিভিন্ন ধরনের নুডলস পাওয়া যায়। এতদিন দোকান বন্ধ থাকার পর সদ্যই খুলেছিল দোকানপাট। ব্যবসায়ীরা জানান, অল্প হলেও বিক্রিবাটা শুরু হয়েছিল।
তবে করোনা সংক্রমণের জন্য আবার দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু ব্যবসায়ী তো বলছেন যে, ২১ দিন পরে যদি আবার কেউ করোনা আক্রান্ত হয় তখন কি আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে দোকান? একটিমাত্র দোকানের জন্য পরপর দুটি ব্লক কেন সিল করে দেওয়া হল? এই প্রশ্নও তুলছেন ব্যবসায়ীরা।
নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আপাতত ওই দু’টি ব্লককে কনটেনমেন্ট জোন করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভার তরফে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় জীবাণুমুক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে।





