বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় স্থান শহরের মধ্যমণি রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল। কেএমডিএ-র আবেদন খারিজ করে এমনটাই জানাল জাতীয় পরিবেশ আদালত। শহর কলকাতার ফুসফুস রবীন্দ্র সরোবরে (Rabindra sarobar) ছটপুজো করতে অনেক আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। কিন্তু এই বছর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে জাতীয় পরিবেশ আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছিল কলকাতা মেট্রোপলিট্যান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) (Kolkata metropolitan development authority)। ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ওই আবেদনের শুনানি হবে।
যদিও এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ কেএমডিএ-র আবেদন ন্যাসাৎ করল জাতীয় পরিবেশ আদালত (National green tribunal)। বিরোধীদলের কটাক্ষ ছিল, ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের হিন্দিভাষী লোকজনের মন জেতার আরও এক চেষ্টা করছে তৃণমূল (TMC)। যদিও এর জেরে চরম উদ্বিগ্ন রাজ্যের পরিবেশকর্মী ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আন্দোলনে সাড়া দিয়েই ২০১৮ সালে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জাতীয় পরিবেশ আদালত। প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত খোদ এই আবেদন জানিয়েছিলেন।
১৯২ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত রবীন্দ্র সরোবরে ৭ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক আমফান ঘূর্ণিঝড়ে এর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবুজ ঘেরা এই কৃত্রিম হ্রদ ও গাছগাছালি পাখিদের স্বর্গরাজ্য। প্রায় ২০০ প্রজাতির পশুপাখি এখানে বাস করে। বছরের বিভিন্ন সময়ে সরোবরে ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। যাদের দেখতে দূর–দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পক্ষীপ্রেমী মানুষজন। এই বিশাল ঝিলে বিভিন্ন প্রকারের মাছও রয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরই রবীন্দ্র সরোবরে কুৎসিত বিশৃঙ্খলার সাক্ষী হয়েছিল রাজ্য। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯–এর নভেম্বরে ছটপুজোর সময় বন্ধ গেট জোর করে খুলে সরোবরে ঢুকে পড়ে বহু মানুষ। এই সমস্ত মানুষগুলোর জন্য কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পুকুর বা জলাশয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ছটপুজো করার সুষ্ঠু আয়োজন করা হয়। কিন্তু সে সব সুবিধা এড়িয়ে তারা ভিড় করে রবীন্দ্র সরোবরে। সঙ্গে নিয়ে আসে ঢোলতাসা, বাজনা। ফাটানো হয় দেদার শব্দবাজি। এই ঘটনাকে ঘিরে গত বছর মারাত্মক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নিজেদের শান্তির থাকার জায়গায় মৃত্যু মিছিল দেখা যায় পশুপাখিদের। সরোবরের বাসিন্দা এক কচ্ছপের দেহ ভেসে ওঠার পরে বিতর্ক আরও বাড়ে। মাছের মড়কও দেখা দেয়।
১৯২০ সালে ব্রিটিশদের হাতে গড়ে ওঠা এই রবীন্দ্র সরোবরকে জাতীয় সরোবর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কলকাতার ফুসফুসের একটি দিক হল এই সরোবর, অন্য দিকটি ময়দান। এখানে দেখতে পাওয়া নানা প্রজাতির পাখিগুলির মধ্যে রয়েছে কটন পিগমি গুজ, লার্জ–বিল্ড লিফ ওয়ার্বলার, টিক্কেল্স লিফ ওয়ার্বলার, ব্লাক–হেডেড কুক্কুস্রাইক এবং স্লটি–ব্লু ফ্লাইক্যাচার।





