আগেই ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ধ’র্ষ’ণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন যুবতী। সেই যুবতীর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এবার মানবিক সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২৩ সপ্তাহ অন্তঃসত্ত্বা ওই যুবতী। তাঁর গর্ভপাতের অনুমতি দিল আদালত।
কী অভিযোগ উঠেছিল?
গত বছর ২৭ বছরের যুবতী গল্ফগ্রিন থানায় ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধ’র্ষ’ণ করেছেন। এরপরই ওই ব্যক্তি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তাকে গ্রেফতার করলেও আপাতত নিম্ন আদালতের নির্দেশে ওই অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যায়।
এরপর জানা যায়, যিনি ধ’র্ষ’ণে’র অভিযোগ করেছিলেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। প্রথমে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার লক্ষণ টের পান নি যুবতী। যতদিনে বুঝতে পারলেন, ততদিনে ২১ সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। আইনি জটিলতা তৈরি হয় গর্ভপাতের ক্ষেত্রে। সেই মামলা ওঠে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। অবশেষে কাটল সেই জট। ২৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুবতীর গর্ভপাতের নির্দেশ দিল আদালত।
২৩ সপ্তাহে গর্ভপাত করা কী বৈধ?
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত চিকিৎসক নিতে পারেন। কিন্তু এর বেশি সময় হয়ে গেলে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রেও তাই আদালতের অনুমতির জন্যই অপেক্ষা করতে হয় যুবতীকে। তবে যুবতীর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই গর্ভপাতের অনুমতি দেয় হাইকোর্ট।
গঠন হল বিশেষজ্ঞদের মেডিক্যাল বোর্ড
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গর্ভপাত করাতে হবে যুবতীর। এমআর বাঙুর হাসপাতালে হবে গর্ভপাত। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের ২ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শিশু বিভাগের ১ চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে গর্ভপাত করানো হবে যুবতীর। তাঁর যাতে যাতে শারীরিক কোনও সমস্যা না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে চিকিৎসকদের, এমনটাই নির্দেশ আদালতের। যুবতী কেমন রয়েছেন, তা রিপোর্ট দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই জানাতে হবে হাইকোর্টকে।






