হাইকোর্টে বসল এজলাস, ফিজিক্যাল কোর্টের পরিকল্পনা ভেস্তে হাইকোর্টে গরহাজির বহু আইনজীবী

করোনার জেরে এতদিন বন্ধ ছিল সমস্ত আদালত চত্বর। এবার আনলক পর্বে খুলল আদালত। বসল এজলাস। কিন্তু হাইকোর্ট খুললেও দেখা মিলল কয়েকটি মাত্রই এজলাসের। তিনমাস পর বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে ফিজিক্যাল হিয়ারিং শুরুর পরিকল্পনা একদম ভেস্তে দিলেন আইনজীবীরা। আইনজীবীদের তিনটি সংগঠন এদিন শুনানিতে আপত্তি জানিয়ে কাজে যোগ দিল না। অন্যদিকে গুটিকয়েক আইনজীবী সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কোর্ট চত্বরে উপস্থিত হন। যাঁরা এদিন হাজির হয়েছিলেন, তাঁরাও চত্বরে এসে দ্বন্দ্বে পড়ে যান। এমনকী সরকারী তরফে বার অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্তের উল্লেখে প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাজির না-থাকার যুক্তি দেওয়া হয়। ফলে মুষ্টিমেয় কয়েক জন এজলাসে সরাসরি শুনানিতে হাজির হলেও বেশির ভাগ এজলাসেই তালিকাভুক্ত বহু মামলার শুনানি হয়নি।

এই অবস্থায় আজ, আইনজীবীদের তিনটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান বিচারপতি। সংগঠনগুলির দাবি, আজ বেলা ১২টায় সংগঠনগুলির শীর্ষকর্তাদের হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির তরফ থেকে ডাকা হয়েছিল। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরাই চিঠির মাধ্যমে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছিলাম। আদালত আলোচনা করতে চাইলে আমরা যাব।’ যদিও বার লাইব্রেরির সম্পাদক প্রমিত রায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, ‘এখনও কোর্ট তরফে এমন কোনও বৈঠকের আমরা চিঠি পাইনি। আর এর আগে যে তিনটি বৈঠক হয় সেগুলি ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে। একদিকে যখন ফিজিক্যাল কোর্ট চালানো নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন কিভাবে আদালত চত্বরে বৈঠক ডাকা হয়, সেটাই মাথায় ঢুকছে না।’

এই সমস্যার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ফিজিক্যাল কোর্ট চালুর ঘোষণায় হাইকোর্টে হাজির হন কিছু আইনজীবী। মূলত সাদা জামা ও মাস্ক-পড়ে তাঁরা উপস্থিত হন। কেউ কেউ কালো কোট পরলেও আইনজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট গাউন পরেননি কেউই। কারণ, করোনা সংক্রমণ এড়াতে ভারী পোশাকের ওপর ছাড় দিয়েছে স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি এজলাসে আইনজীবী ও বিচারপতির মধ্যে কাচের দেওয়ালেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি সোশ্যাল ডিস্টানসিং বজায় রাখতে একটি শুনানিতে ৬ থেকে ৮ জনের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। কোর্টে ঢোকার মুখেই ছিল থার্মাল স্ক্রিনিং এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা। রং দিয়ে গোল্লা কেটে দূরত্ববিধি মানার সমস্ত ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়াও আরও পাঁচটি বেঞ্চ সরাসরি শুনানির জন্য বসে। কিন্তু খুব বেশি মামলার শুনানি এদিন হয়নি, কারণ বেশিরভাগ আইনজীবীই আজ গরহাজির ছিলেন।

জুনিয়র আইনজীবী এবং ল-ক্লার্ক-এর অনেকেই আজ হতাশ হাজিরা এড়ানোর সিদ্ধান্তে। এমনকি নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বিচারপ্রার্থীদের অনেকেও।

RELATED Articles

Leave a Comment