Salt Lake Stadium incident : যুবভারতীতে তাণ্ডবের পর কড়া হাই কোর্ট, রাজ্যের রিপোর্ট ছাড়া এগোবে না মামলা!

খেলার মাঠ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশার সঙ্গে যখন বাস্তবের সংঘর্ষ ঘটে, তখন জন্ম নেয় অস্বস্তি ও প্রশ্ন। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে সম্প্রতি ঠিক এমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র—সব মিলিয়ে যে ঘটনার সূত্রপাত, তা শেষমেশ গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। আর সেখানেই আপাতত থমকে গেল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলার শুনানি।

গত শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিয়োনেল মেসি। মাত্র কুড়ি মিনিটের উপস্থিতিই যথেষ্ট ছিল আবেগের পারদ চড়িয়ে দিতে। অভিযোগ, মেসি মাঠে প্রবেশ করার পর একাংশের ভিড় তাঁকে ঘিরে ধরে রাখে। ফলে গ্যালারিতে বসা বহু দর্শক প্রিয় তারকাকে দেখতেই পাননি। সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়। মেসি স্টেডিয়াম ছাড়ার পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—ভাঙচুর হয় স্টেডিয়ামের একাংশে, তৈরি হয় আতঙ্কজনক পরিবেশ।

এই ঘটনার পরেই কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হয় মোট তিনটি জনস্বার্থ মামলা। বৃহস্পতিবার মামলাগুলি ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্য সরকারের তরফে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি সুপ্রিম কোর্টে অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় রাজ্যের পক্ষ থেকে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আর্জি মেনে নিলেও বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেয়নি।

শুনানি মুলতবি রাখলেও আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—আগামী সোমবারের মধ্যে রাজ্য সরকারকে যুবভারতীকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী শুনানিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে কোন পথে এগোবে মামলা। অর্থাৎ, আপাতত পুরো বিষয়টির চাবিকাঠি রাজ্যের রিপোর্টের হাতেই।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh: ঢাকাকে স্পষ্ট বার্তা নয়াদিল্লির—হাই কমিশনে হামলার হুমকির পর বন্ধ ভারতীয় ভিসা পরিষেবা, তুঙ্গে ভারত–বাংলাদেশ উত্তেজনা

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের গঠিত অনুসন্ধান কমিটিকেও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে আদালতে। মামলাকারীদের বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির তদন্ত করার আইনগত ক্ষমতা নেই। কমিটিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর উপস্থিতিও প্রশ্নের মুখে। পাশাপাশি, আদালতের সরাসরি নজরদারিতে তদন্ত, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইডি ও সিবিআই তদন্তের দাবিও উঠেছে। সব মিলিয়ে যুবভারতীকাণ্ড এখন শুধুই মাঠের বিশৃঙ্খলা নয়, বরং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বড় পরীক্ষা। সোমবারের রিপোর্টেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে—এমনই আশা সকলের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর