Mamata banerjee : “এজেন্সি দিয়ে ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে?”— জিএসটি ও বদনামের রাজনীতির বিরুদ্ধে শিল্পমঞ্চে মমতার কড়া বার্তা!

রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে নানা সমালোচনা, প্রশ্ন আর বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামের শিল্পমঞ্চে উঠে একেবারে ভিন্ন সুরে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল ‘বদলে যাওয়া বাংলা’র কথা। কোনও পরিসংখ্যান বা বড় দাবি দিয়ে শুরু না করে তিনি প্রথমেই ইঙ্গিত দিলেন একটি মানসিকতার দিকে— যেখানে পরিকল্পিত ভাবে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেই অভিযোগ তাঁর।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ক্ষমতায় আসার সময় তিনি নিজেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন— বাংলার ভাবমূর্তি বদলাতে হবে। বৃহস্পতিবারের মঞ্চ থেকে সেই কথাই ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আজ বাস্তবে সেই পরিবর্তন চোখে পড়ছে। তাঁর দাবি, দেশের লজিস্টিক হাব হিসেবে বাংলা এখন শীর্ষে। সেই কারণেই অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মতো বড় সংস্থা এ রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত কয়লা, প্রশিক্ষিত কর্মী ও দক্ষ মানবসম্পদ— এই সব মিলিয়েই বাংলার ট্যালেন্ট পুল গড়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

এর পাশাপাশি রাজ্যের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু মহল ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে বাংলাকে অশান্ত দেখানোর চেষ্টা করছে। অথচ বাস্তব চিত্র একেবারেই আলাদা। তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৯৫টি সামাজিক প্রকল্প চালু রয়েছে, যা দেশের বহু রাজ্যে নেই। গত ১৪ বছরে শ্রমদিবস নষ্টের সংখ্যা শূন্য— এই দাবিও করেন তিনি, যা শিল্পবান্ধব পরিবেশেরই ইঙ্গিত দেয় বলে তাঁর মত।

কেন্দ্রের জিএসটি নীতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। জিএসটির নামে রাজ্য থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে এজেন্সির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন— ব্যবসায়ীরা যদি সব সময় আতঙ্কে থাকেন, তবে শিল্প চলবে কীভাবে? তাঁর মতে, শিল্পের স্বাধীনতা বজায় রাখা না গেলে কর্মসংস্থান তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুনঃ Salt Lake Stadium incident : যুবভারতীতে তাণ্ডবের পর কড়া হাই কোর্ট, রাজ্যের রিপোর্ট ছাড়া এগোবে না মামলা!

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে একাধিক দাবি তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় দুই কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বেকারত্ব কমেছে ৪০ শতাংশ। বাংলা ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, আমেরিকা ও ব্রিটেন থেকে বিনিয়োগ আসছে। পোশাক ও চর্মশিল্পে দেশসেরা অবস্থান, হাবরা–অশোকনগরে ওএনজিসির কাজ শুরু, গত দু’বছরে রিয়েল এস্টেটে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ— সব মিলিয়ে তিনি বার্তা দেন, বদনাম করে বাংলার বদল থামানো যাবে না। তাঁর শেষ কথা— “চুপ থাকা আমাদের আসল অস্ত্র, কারণ জেলাসির কোনও ওষুধ নেই।”

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles