সাধারণত ভরদুপুরে মেট্রো স্টেশন মানেই যাত্রীদের ভিড়, টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন কিংবা ট্রেন ধরতে ব্যস্ত জনতার আনাগোনা। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন যেন হঠাৎই রূপ নিল রণক্ষেত্রে। রক্তে ভেসে গেল প্ল্যাটফর্ম, হট্টগোলে আতঙ্কিত হলেন যাত্রীরা। সবাই ভাবছিলেন, এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটল কীভাবে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরে মেট্রো স্টেশন চত্বরে আচমকা বচসায় জড়িয়ে পড়ে একদল স্কুল পড়ুয়া। কথার লড়াই মুহূর্তেই গড়ায় হাতাহাতিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তে দুই দলে বিভক্ত হয়ে তারা একে অপরের উপর চড়াও হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে এলেও উত্তেজনা থামানো ছিল দুষ্কর। কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সাধারণ যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
হাতাহাতি চলাকালীন হঠাৎই এক ছাত্র বের করে আনে ছুরি। এরপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। অপর এক ছাত্রকে লক্ষ্য করে ছুরি চালায় সে। মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে আহত পড়ুয়া। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ‘‘গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে, দৃশ্যটা ভয়ঙ্কর ছিল।’’ সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে যান, আহতকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহত ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয় সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে। তবে চিকিৎসকরা সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার জেরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত ছাত্রের সঙ্গীরাই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিক অনুমান। তদন্তকারীরা মনে করছেন, কোনও প্রণয়-সংক্রান্ত কারণেই এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে
আরও পড়ুনঃ Supreme Court :রাজ্যের ১৬ পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কড়া নির্দেশ! সিবিআইকে তিন মাসের ডেডলাইন!
দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন সর্বদা রেলপুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও ছুরি হাতে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারল কীভাবে সেই প্রশ্নে উদ্বিগ্ন যাত্রীরা। অনেকেই বলছেন, ‘‘খুনের পরিকল্পনা করেই এসেছিল তারা।’’ যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। পুলিশের তদন্ত চলছে, আটক হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই ঘটনার পর।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার