পাঁঠা বা খাসির জায়গায় বাঁধা কুকুর। এই ছবিটা নাগাল্যান্ডের নয়। খাস পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর ছবি। দক্ষিণ কলকাতার গল্ফ গ্রিন-বিজয়গড়ের কাছে শ্রী কলোনি বাজারে কুকুরের মাংস বিক্রি করার অভিযোগ উঠল এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় মাংস বিক্রেতা কার্তিক পাল কুকুরের মাংস বিক্রি করছেন, এই অভিযোগকে ঘিরে তান্ডব শুরু হয়। দোকানে তিনি কুকুর আটকে রেখেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
ওই তল্লাট নেতাজিনগর থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। কিছুক্ষণের চেঁচামেচি হইহট্টগোলের পর খবর পৌঁছয় থানায়। পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্যতম, গোপাল বিশ্বাস জানান, কার্তিকের দোকানের ভিতর থেকে পা ও মুখ বাঁধা একটি কুকুরকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশকে গোপাল জানিয়েছেন, কার্তিকের দোকানের শাটার অর্ধেক নামানো ছিল এবং সেখান থেকে খুব জোরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছিল। তখন বাজারের অন্য দোকানিরা এবং গোপাল সেখানে ছুটে যান। তাঁরা জোর করে দোকানের শাটার তুলে দেখেন সেখান একটি কুকুর বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। কুকুরটিকে তাঁরা উদ্ধার করেন। এখন কুকুরটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মাংসের দোকানদার কার্তিকের দাবি, তিনি কুকুরটিকে খাওয়ানোর জন্যই দোকানে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই প্রশ্ন, সে ক্ষেত্রে কুকুরটির মুখ ও পা বাঁধা হল কেন? নেতাজিনগর থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর পর অবশ্য কোনও কুকুর দেখতে পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী গোপাল বিশ্বাস পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে নেতাজিনগর থানার পুলিশ। মাংস বিক্রেতা কার্তিককে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার একটি কুকুরপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে নেতাজিনগর থানায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং কার্তিক পালের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই সংগঠনের তরফে আয়ুষী দে জানিয়েছেন, ‘কার্তিক সব সময়ে মাংস কেটে এনে বিক্রি করতেন। তাঁর দোকানে জ্যান্ত পাঁঠা বা খাসি কোনওদিন দেখতে পাওয়া যায়নি। অন্য দোকানদারদের তেমনটাই বক্তব্য।’ সেই জন্য এখন সন্দেহ আরও বেশি হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন। স্থানীয় তথা ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি সামাজিক মাধ্যম থেকে বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখছি।’





