Mamata Banerjee: ইডি তল্লাশির মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে ‘সবুজ ফাইল’ হাতে বেরিয়ে গেলেন মমতা! কী লুকোনো আছে ওই ফাইলে? ভোটের মুখে কলকাতায় তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়!

ভোরের কলকাতা সাধারণত শান্তই থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল শুরু হতেই সেই চেনা ছন্দে আচমকা ছেদ পড়ে। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গাড়ির আনাগোনা নজরে পড়তেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—কোথায়, কেন এই তৎপরতা? রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সবার মধ্যেই তৈরি হয় কৌতূহল। তখনও কেউ জানতেন না, এই সকাল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে চলেছে।

সকালের আলো ফোটার সঙ্গেই স্পষ্ট হয় ছবিটা। ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের সল্টলেকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। বুধবার রাতেই দিল্লি থেকে ইডির একটি বিশেষ দল কলকাতায় আসে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোরে একাধিক জায়গায় হানা দেয়।

এই তদন্তের শিকড় বেশ কয়েক বছর আগের। আগে ঝাড়খণ্ড ও কলকাতায় চালানো তল্লাশিতে তদন্তকারীদের নজরে আসে কয়েকটি আর্থিক লেনদেনের সূত্র। সেই মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে একাধিকবার জেরা করা হয়েছিল দিল্লিতে। ইডি সূত্রে জানা যায়, সেই জেরার তথ্য বিশ্লেষণ করতেই উঠে আসে আরও কিছু নাম, যার মধ্যেই ছিল প্রতীক জৈনের নাম। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে তথ্য যাচাই চলার পরই তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছয় বলে দাবি ইডির।

তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের পুলিশ কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের উপস্থিতি, আর বেরিয়ে আসার সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একটি সবুজ ফাইল—এই দৃশ্যই রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দাবি করেন, ওই ফাইলে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, হার্ডডিস্ক ও কৌশলগত তথ্য, যা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযান।

আরও পড়ুনঃ Kolkata : কলকাতায় IPAC-র অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED তল্লাশি, পুরনো মামলায় হঠাৎ সক্রিয় তদন্তকারী সংস্থা!

এই দাবি ঘিরেই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী শিবির প্রশ্ন তোলে—দলের গোপন নথি কেন একটি বেসরকারি কনসালট্যান্ট সংস্থার কাছে থাকবে? আবার শাসক দলের বক্তব্য, ভোটের আগে আই-প্যাকের কাছে বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী ডেটা থাকাই স্বাভাবিক। সবুজ ফাইলের ভিতরে ঠিক কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু রাজনীতিতে নিশ্চিত তথ্যের থেকেও যে ইঙ্গিত আর ধারণা বেশি প্রভাব ফেলে, সেই বাস্তবতাই ফের একবার সামনে এল। আর সেই কারণেই এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রইল ওই একটিমাত্র সবুজ ফাইল—যার রহস্য এখনও অমীমাংসিত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles