Suvendu Adhikari : শুভেন্দুর আইনি সুরক্ষা শেষ! আদালতের নির্দেশে ফের জোরদার তদন্ত, রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা!

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। একসময় আদালতের সুরক্ষায় থাকা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এখন আর সেই আইনি নিরাপত্তার আওতায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্ত কার্যত থেমে ছিল এই ‘রক্ষাকবচ’-এর কারণে। কিন্তু শুক্রবারের হাইকোর্টের নির্দেশে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেল। রাজনৈতিক মহল থেকে আইনজীবী সমাজ—সবারই এখন একটাই প্রশ্ন, এই রায় কি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ গড়ে তুলবে?

২০২১ সালে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছিলেন। যুক্তি ছিল— বিরোধী দলনেতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একাধিক মামলায় জড়ানো হতে পারে, যা তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে। সেই কারণেই আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নতুন কোনও অভিযোগ দায়ের করতে হলে আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। সেই রায়ের পর থেকেই রাজ্য সরকার তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। এমনকি বিচারপতি আইপি মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে একবার রায় খারিজও হয়েছিল, পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ‘রক্ষাকবচ’ কার্যকর থাকে।

কিন্তু শুক্রবার সবকিছু বদলে দিল বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালত জানায়, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে থাকা মোট ২০টি মামলার মধ্যে ১৫টি খারিজ করা হচ্ছে, কিন্তু বাকি চারটি মামলা— যার মধ্যে মানিকতলা থানার মামলাও রয়েছে— তাতে সিবিআই ও রাজ্য পুলিশের যুগ্ম তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্য পুলিশ একসঙ্গে এই মামলাগুলির তদন্ত করবে। আদালতের এই নির্দেশে শুভেন্দুর আইনি জটিলতা যে বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, এতদিন যেটি শুভেন্দুর জন্য একটি নিরাপত্তা-কবচ ছিল, সেটি চলে যাওয়ায় তাঁর পুরনো মামলাগুলির তদন্তের গতি ফের বেড়ে যেতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতদিন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে থাকা এফআইআরের তদন্ত স্থগিত ছিল। আজ চূড়ান্ত শুনানির পর সেই রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হল। এতে ন্যায় বিচার আরও স্বচ্ছ হবে।” অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল নয়, বরং আইনই তার নিজস্ব পথে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ Assa*ult: কালীপুজোর রাতে প্রতিবাদের জেরে ঘর ভাঙচুর ও দম্পতির ওপর হামলা, মহিলাকে শ্লীল*তাহানি ও ধর্ষ*ণের হুমকি!

সব মিলিয়ে শুক্রবারের রায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড়সড় আলোড়ন তুলেছে। শুভেন্দু অধিকারীর ‘রক্ষাকবচ’ প্রত্যাহারের ফলে রাজনীতি ও আইনের সংঘাত আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা। এখন নজর সবার সেই চার মামলার ওপর, যেখানে সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করবে। আগামী দিনে সেই তদন্তের ফল কী হয়, তার উপরই নির্ভর করবে শুভেন্দুর রাজনৈতিক পথ কতটা মসৃণ থাকবে, না কি নতুন বিপদ সামনে আসবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles