রাতারাতি যদি প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ করা হয় তবে তাতে হাইকোর্ট অবশ্যই হস্তক্ষেপ করবে, এমনই কড়া হুঁশিয়ারি করা হল কলকাতা হাইকোর্টের তরফে।
প্রাথমিক স্তরে সাড়ে ১৬ হাজার শূন্যপদে যাতে সঠিক নিয়ম মেনেই শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, সেদিকে বিশেষ নজর হাইকোর্টের। এদিন, হাইকোর্টে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় মামলাকারীদের তরফের আইনজীবী এই বিষয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর দাবী, বাঁকুড়া, মালদার ছ’ঘণ্টাতেই ইন্টারভিউয়ের প্রক্রিয়া শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ওইদিন রাতেই নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আইনজীবীর এই মন্তব্যকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য যদি রাতারাতি প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়, তবে তাতে হস্তক্ষেপ করবে হাইকোর্ট। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে ১০ থেকে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়োগ প্যানেল তৈরি করা হবে।
এদিন আদালতের তরফে আরও জানানো হয় যে, আগামী সোমবার টেট সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি হবে। তিন থেকে চারটি ক্যাটেগরিতে আদালত টেট মামলা শুনবে।
গত ২৩শে ডিসেম্বর প্রাথমিকে সাড়ে ১৬ হাজার শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্য। তবে এই বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদশ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন বেশ কিছু চাকরিপ্রার্থী। তাদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের এই শূন্যপদে নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেই বছরই টেট পরীক্ষায় ৬টি প্রশ্ন ভুল এসেছিল। এর জেরে পরীক্ষার্থীরা তার উত্তর দিতে পারেননি। এর জেরে পাশও করেননি অনেকে। এখনও পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত মামলা চলছে। সেই মামলার সংশোধন না হয়ে কীভাবে নিয়োগ পদ্ধতি হতে পারে, এই নিয়ে প্রশ্ন করেন তারা।
এরপরই হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে টেট উত্তীর্ণদের সমস্ত নথি যাচাইয়ের জন্য আগামী ৮ তারিখ পর্যন্ত সময় দিতে হবে। যদি অনলাইনে নথি জমা দিতে অসুবিধা হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নথি জমা দিতে পারবেন।





