মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলছেন যে, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেশের মধ্যে সবথেকে উন্নত কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বারংবার অন্য কথা বলছে। করোনা (CoronaVirus) নিয়ে রোগীদের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ যেমন আসছিল সেই সঙ্গে এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স (Ambulance driver) চালকদের রোগীদের নিয়ে যাওয়ার অনীহা। এরকমই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দমদমের (Dumdum) আর এন গুহ রোডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদমের নাগেরবাজার সংলগ্ন আর এন গুহ রোডের একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের নীচে কয়েকদিন ধরেই বাস করছিলেন এক ভবঘুরে বৃদ্ধ (wandering old man)। দিনকয়েক ধরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। করোনা পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য ফোন করলেও কোনরকম সদর্থক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ।
এরপর রাজ্যের করোনা হেল্পলাইনে ফোন করলে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি ফোন নম্বর দেয় এবং বলে যে এই ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নম্বরে ফোন করলে সেখান থেকে জানানো হয় যে প্রথমে এই বৃদ্ধের করোনা টেস্টের রিপোর্ট আগে দিতে হবে তারপরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হবে। এরপরেই বাসিন্দারা উপায়ন্তর না দেখে গোটা বিষয়টি দমদম থানায় (DumDum Police Station) জানান। দমদম থানা (DumDum Police Station) দক্ষিণ দমদম পৌরসভাকে (South Dumdum Municipality) অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে অনুরোধ করে। এর মাঝেই চলে যায় অনেকটা সময়। ওই বৃদ্ধ শারীরিকভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দক্ষিণ দমদম পৌরসভা থেকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের যোগাযোগ করা হলেও দেখা যায় যে তারা কেউই যেতে রাজি হচ্ছেন না। তাদেরকে বারংবার অনুরোধ-উপরোধ করা হয়। কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করার পর এক অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজি হওয়ায় আজ ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গোটা ঘটনায় উঠে এসেছে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেআব্রু দিকটি। রাজ্যে করোনা নিয়ে যে সচেতনতা তলানিতে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ব্যবহারেই স্পষ্ট। যেখানে সাধারণ মানুষকেই হাসপাতাল ভর্তি নিতে চাইছে না সেখানে একজন ভবঘুরের জন্য যে লড়াইটা কঠিন হবে তা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবু তারা হাল ছাড়েননি। লেগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন বৃদ্ধকে। এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবিক রূপ সামনে এলেও রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তাদের অমানবিক দিকটি ফের একবার চলে এলো প্রকাশ্যে।





