করোনা সংক্রমণের মধ্যে নানান অমানবিক দৃশ্য আমাদের সামনে উঠে এসেছে। কোথাও কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে করোনা সন্দেহে বাড়ি ছাড়া করা হচ্ছে, কিংবা কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে মানুষ এগিয়ে আসছে না। কিছুদিন আগে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে কারোর সাহায্য না পেয়েই এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়। এবার হাওড়ার লিলুয়াতে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হল।
লিলুয়ার এক বাসিন্দা বছর ৪০ এর সন্তোষ হরিজন গত ২২ শে জুলাই করোনা সংক্রামিত হয়ে সত্যবালা আই.ডি. হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর লালারসের পরীক্ষা করে করোনার হদিশ পাওয়ার পরই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর ২৫ শে জুলাই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, তাঁর করোনার উপস্বর্গ না থাকায় ডাক্তার তাঁকে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন থাকার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি বাড়িতেই ছিলেন।
কিন্তু রবিবার হঠাৎই সকাল থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। যত রাত বাড়ে তত তাঁর অসুস্থতাও বাড়তে থাকে। এরপর আজ ভোর রাতের দিকে তাঁর প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করতে থাকে বাড়ির লোক। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা একাধিক জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করেন। তাঁরা লিলুয়া থানা, সত্যবালা হাসপাতালেও ফোন করেন। এমনকি হাওড়া পুরসভার হেল্পলাইন নম্বরেও ফোন করেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয় না। কোনো অ্যাম্বুলেন্সেরই খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর ওই ব্যক্তি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাড়িতেই অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকেন। এরপর আজ সকাল ৭ টা নাগাদ ওই ব্যক্তি মারা যান। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
এরপর পুরসভায় খবর দেওয়া হলে সকাল ১১.৩০ টা নাগাদ শববাহী গাড়ি সেখানে পৌঁছায় এবং মৃত ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, হাওড়ায় এখন সংক্রমণ বাড়ছে। তাই এই মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করলেই পুরসভার তরফে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি স্বীকারও করেছেন। তবে এই ঘটনায় কি হয়েছিল তা তিনি তদন্ত করে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।





