সীমান্তের ওপার থেকে আসা একের পর এক অশান্তির খবর ক্রমশই প্রভাব ফেলছে এপার বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহে। একদিকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বালিগঞ্জে রাত পোহানোর আগেই প্রার্থী বদলের জল্পনা, অন্যদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু যুবকের নৃশংস হত্যাকে ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ—সব মিলিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে দ্রুত। রাজনীতি, কূটনীতি ও রাজপথ—তিন স্তরেই যেন অস্বস্তির ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই আবহেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম সরিয়ে মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর—এমনটাই দলীয় সূত্রে খবর। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এই বদল শুধুই কৌশল, না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও অঙ্ক রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। রাতারাতি এই সিদ্ধান্তে দলের অন্দরেও যে চাপানউতোর রয়েছে, তা অস্বীকার করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সীমান্তের ওপার থেকে আসে আরও ভয়াবহ খবর। বাংলাদেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন এবং পরে দেহে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্থানীয় থানার পুলিশের সামনেই এই নৃশংসতা ঘটে। একটি পোশাক কারখানায় কাজ করা দীপু হঠাৎই বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যান এবং সেখানেই প্রাণ হারান। দেড় বছরের শিশুকে বুকে জড়িয়ে স্তব্ধ তাঁর স্ত্রী, পরিবার হারিয়েছে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাইরে বিক্ষোভে নামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ‘হিন্দু হত্যা বন্ধ করো’, ‘ইউনূস সরকার হোশ মে আও’—এমন স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। একইসঙ্গে কলকাতায় শঙ্খনাদ আর গেরুয়া পতাকা হাতে সাধু-সন্তদের মিছিল পৌঁছয় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের দিকে। বেগবাগানে ব্যারিকেডে আটকে গেলে রাস্তায় বসে পড়েন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh: বিএনপি-ছাত্রদল বনাম এনসিপি! খুলনা-শরীয়তপুরে নির্বাচনী নাশকতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন!
কলকাতার পাশাপাশি শিলিগুড়ি, হুগলি, পুরুলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের ঢেউ। কোথাও ভিসা অফিসের পোস্টার নামানো হয়, কোথাও দীর্ঘ পদযাত্রা। সীমান্তের ওপারের একটি হত্যাকাণ্ড যে এপারের রাজনীতি ও রাজপথকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে, তা এখন আর অস্বীকার করার জায়গা নেই। এই উত্তাল পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য ও দেশ।





