পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ জমেছে অনেকদিন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন যখন সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তখন তার প্রতিধ্বনি সীমান্ত পেরিয়ে বহু দূরেও শোনা যায়। সেই আশঙ্কাই এখন দেখা দিয়েছে ভারতে। ইরান ও আমেরিকার সংঘাত ঘিরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার আবহে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হয়েছে কেন্দ্র।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যগুলিকে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রভাব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে।
এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক ঘটনা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর সামনে আসে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ১ মার্চ শ্রীনগরের লালচকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা যায়। যদিও প্রশাসনের দাবি, সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
শুধু কাশ্মীরেই নয়, লখনউ ও লাদাখের লেহতেও শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রতিবাদে শামিল হন। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti) হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি কাশ্মীরের প্রধান ইমাম মীরওয়াইজ উমর ফারুক (Mirwaiz Umar Farooq) ইরানের ওপর হামলার বিরোধিতা করেন। জামাতে ইসলামি হিন্দের সভাপতি সৈয়দ সাদাতোল্লা হোসেইনি (Syed Sadatullah Hussaini) এই সামরিক পদক্ষেপকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বলে অভিহিত করেছেন এবং ভারতের স্বাধীন ও নীতিগত অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
আরও পড়ুনঃ বিয়ে হতেই কপাল খুলল বিজয়-রশ্মিকার! রাতারাতি শিরোনামে, ছাপিয়ে গেলেন বিশ্ব ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকেও! এমন ‘চমক’ যা কেউ ভাবেনি! সত্যিই কি সম্ভব?
এই সব ঘটনার জেরে কেন্দ্রের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। গোয়েন্দা মহলের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চরমপন্থী শক্তি স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই রাজ্যগুলিকে আগাম সতর্ক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলা হয়েছে। আপাতত বড় ধরনের অশান্তির খবর না থাকলেও, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঢেউ যাতে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি না করে, সেটাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।






