গত বুধবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সেনা পোশাক পরা বেশ কিছু যুবক-যুবতীকে দেখা যায়। তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। কারা ছিল ওই সেনা উর্দিধারীরা? এই নিয়ে এবার গতকাল, বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিশ। শুধু তাই-ই নয়, রহস্যভেদে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ডিন অফ স্টুডেন্টসকে তলব করা হয়েছে। নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছে উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকেও।
কারা ছিল ওই উর্দিধারীরা?
ওই সেনা উর্দিধারীদের মধ্যে কেউ দাবী করেছিলেন, তারা রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী, তো কেউ আবার দাবী করেছিলেন তারা নাকি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী। কিন্তু আসলে কে তারা? কেই-ই বা তাদের যাদবপুরে পাঠাল? তা নিয়ে তৈরি হয় বিপুল বিতর্ক। আর এসবের মধ্যেই ফের নতুন করে যাদবপুরে নিরাপত্তা নিয়ে উঠে প্রশ্ন।
পরে জানা যায়, এই বাহিনী আসলে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও নয়, আবার ভারতীয় সেনাও নয়। তারা শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য। সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে থানায় নিয়োগ করা হবে তাদের।
সেই বাহিনীর দাবী ছিল, তারা যাদবপুরে অরাজকতার জন্য নিরাপত্তা দিতে এসেছেন। সকলকে রক্ষা করা, র্যাগিং সংস্কৃতি শেষ করাই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু ভারতীয় সেনার অনুমতি ছাড়া কি সেনার পোশাক পরা যায়, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
কী পদক্ষেপ নেয় পুলিশ?
ঘটনার জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। ওই ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় সেনার নাম ও প্রতীকের অপব্যবহারের মামলা করেছে। কীভাবে ওই যুবক-যুবতীরা ক্যাম্পাসে ঢুকল, উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশের পক্ষ থেকে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। পুলিশ অপেক্ষা করছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয় কী না।
কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পরেও যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি, তখন পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। এই ঘটনায় উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ডিন অফ স্টুডেন্টসকে তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে যাদবপুর থানার তরফে।





