যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি একের পর এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের র্যাগিং ও যৌন হেনস্থায় ছাত্রমৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকার বারবার বৈঠক করেছেন, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগের কথা উঠেছে, যা নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্র সমাজের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কলকাতা পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বাড়াতে অন্তত দুশোটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দেয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং অর্থ দপ্তরের প্রতিনিধি। সূত্রের খবর, বৈঠকে পুলিশের প্রস্তাবটি তাত্ক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে আপাতত মেন ও সল্টলেক ক্যাম্পাসে ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য অর্থ অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি ৩২ জন প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে আর্থিক অনুমোদনের জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, বৈঠকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও রেজিস্ট্রার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে দু’জন নতুন সিকিউরিটি অফিসার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ক্যাম্পাসের জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেড়া, আলো এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনও উল্লেখ করা হয়। যদিও সিসিটিভি ক্যামেরা সংক্রান্ত বিষয়টি কিছুটা এগিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগের আর্থিক অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রক্রিয়া শুরু হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটে দুই বছর পার হলেও নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তাব কেন সময়মতো অর্থ দপ্তরে পাঠানো হয়নি, তা আমাদের কাছে অবাক হওয়ার মতো বিষয়।”
আরও পড়ুনঃ Car accident : নিমতলা ঘাটে আতঙ্ক! পুজো দিতে এসে মুহূর্তের মধ্যেই গঙ্গা তলিয়ে গেল গাড়ি, আহ*ত ৪!
এদিকে, কিছু ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানোর বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, সিসিটিভি একা অপরাধ ঠেকাতে যথেষ্ট নয়; নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো এবং নজরদারি উন্নত করাই মূল সমাধান। ক্যাম্পাসে ফেস্ট চলাকালীন এক ছাত্রীর জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে হইচই তৈরি করেছে, যা পুলিশকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করছে। পুলিশের প্রস্তাবিত দুশোটি ক্যামেরা এই পরিস্থিতিকে সামলাতে একটি বড় উদ্যোগ হলেও, শিক্ষক ও ছাত্র সমাজের ভিন্নমত এখনও আলোচনা চলমান রাখছে।





