চিকিৎসা মানেই বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাস যদি টাকার চাপে হারিয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা হয় সেটা চিন্তার বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের নামী হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিবারের অভিযোগ নতুন নয়। তবে আনন্দপুর ফোর্টিস হাসপাতালের এক ঘটনায় সেই অভিযোগ এবার ভয়ঙ্কর রূপ নিল। একদিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, অন্যদিকে সেই বিষয়ে খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিক—দুটি ঘটনার মিলেই ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ।
ঘটনাটি শুরু হয় এক ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধকে ঘিরে। পরিবারের অভিযোগ, একবার স্ট্রোক হওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল আনন্দপুর ফোর্টিস হাসপাতালে। চিকিৎসকদের আশ্বাস ছিল, দু’দিনের মধ্যেই আইসিইউ থেকে তাঁকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু ১২ দিন কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং প্রতিদিন নতুন পরীক্ষা, নতুন বিল। শুধুমাত্র টেস্ট বাবদ খরচ তিন লক্ষ টাকারও বেশি। পরিবারের দাবি, মোট বিল ইতিমধ্যেই সাড়ে আট লক্ষ ছুঁয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর। বৃদ্ধার মেয়ে আইনজীবী, তিনি জানিয়েছেন, গত ২৪ অক্টোবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মেল করে তাঁর বাবার চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু উত্তর তো মেলেনি-ই, উল্টে ২৬ তারিখ থেকে পরিবারকে বলা হচ্ছে—“রোগীকে বাড়ি নিয়ে যান, ক্যান্সারের রিপোর্ট নেগেটিভ।” সিনিয়র চিকিৎসকরা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না আসলে কী হয়েছে। পরিবারের প্রশ্ন—যদি রোগী সুস্থ হন, তবে আইসিইউ থেকে ছাড়া হচ্ছে না কেন? আর যদি অসুস্থ থাকেন, তাহলে কেন তাঁকে ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে?
এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টার। ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা করতেই হঠাৎই তাঁকে ঘিরে ধরে হাসপাতালের দারোয়ানরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা হয়। ফলে মুহূর্তে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। খবরের বদলে ঘটনাটি নিজেই খবর হয়ে দাঁড়ায়। মিডিয়ার উপর এমন হামলা নিয়ে সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ shatrughan sinha : ‘বলো কী চাও, বলে উধাও!’— ছটপুজোর আবহে নিখোঁজ শত্রুঘ্ন সিনহা, আসানসোলে পোস্টারে তপ্ত তৃণমূল–বিজেপি রাজনীতি!
প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি থেকে বেসরকারি, চিকিৎসাক্ষেত্রে কি ক্রমশই ব্যবসার দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে? যেখানে মানবিকতার জায়গা টাকা পয়সা দখল করে নিচ্ছে? এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের যন্ত্রণার কাহিনি আজ সমাজের এক বৃহৎ বাস্তবের প্রতিফলন। পরিবারটির একটাই দাবি—“আমাদের যেন বিচার মেলে, যাতে আর কোনও সাধারণ পরিবার এভাবে প্রতারিত না হয়।” চিকিৎসা পরিষেবা নাকি ব্যবসা—উত্তর খুঁজছে এখন গোটা শহর।






