টেট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ভুলের জের, ২১৫ জন পরীক্ষার্থীকে অবিলম্বে অতিরিক্ত ৬ নম্বর দিতে হবে, নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় ৬টি প্রশ্ন ভুল ছিল। এই বিষয় নিয়ে মামলা রুজু করে প্রাপ্ত নম্বর বাড়ানোর দাবী তোলেন ২১৫ জন পরীক্ষার্থী। অবিলম্বে তাদের সকলের ৬ নম্বর বাড়াতে হবে বলে নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

মামলাকারীরা জানান যে গত বছর বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে কয়েক জন পরীক্ষার্থী মামলা রুজু করে দাবী করেছিলেন, ভুল প্রশ্নের কারণে তাঁদের ৬ নম্বর করে দেওয়া হোক। সেই সময় এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষক পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। এরপর বিচারপতি রাজশ্রী ভরদ্বাজের নির্দেশে তাঁর এজলাসে যাঁরা যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককেই ছ’নম্বর দেওয়ার কথা বলাও হয়েছিল পর্ষদের পক্ষ থেকে।

চলতি বছর ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষা দেওয়া আরও ২১৫ জন প্রার্থী ফের মামলা করে দাবী তুলেছেন যে ওই পরীক্ষায় তারাও বসেছিলেন। তাই প্রশ্নপত্র ভুলের কারণে অতিরিক্ত ৬ নম্বর পাওয়া তাদেরও প্রাপ্য। এবার সেই অতিরিক্ত ৬ নম্বরই ২১৫ জনকে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

বিচারপতির নির্দেশেই ওই ২১৫ জন মামলাকারী তাদের অ্যাডমিট কার্ড প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে ই-মেল করে পাঠিয়ে দেবেন বলে জানা গিয়েছে। আজ পর্ষদের আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান যে অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার পরই ওই ২১৫ জন মামলাকারীর ৬ নম্বর করে বাড়ানো হবে।

এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পর্ষদের আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, “আমি কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াব না। কারণ ওটা চাকরিপ্রার্থীদের চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপার। চাকরি দেওয়াটা জরুরি। তাই স্বচ্ছভাবে নিরপেক্ষ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাক পর্ষদ। যদি কোনও অভিযোগও আসে, তার বিচার চলতে পারে, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার পক্ষপাতী আমি নই। কিন্তু যদি দেখি গুরুতর অভিযোগ আসছে, সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই হস্তক্ষেপ করব”।

RELATED Articles