সেরার মুকুট তিলোত্তমার মাথায়! দীপাবলিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সেরার খেতাব পেল কলকাতা, অনেক পিছনে দিল্লি, মুম্বই

দেশের নানান মেট্রো শহরগুলির মধ্যে পরিচ্ছন্ন ও সবথেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী শহর হিসেবে সেরার খেতাব পেল কলকাতা। রাজ্যের পরিকাঠামো ও আইআইটি দিল্লির গবেষকরা শহরের নানান জায়গায় বায়ুদূষণের পরিমাপ বিশ্লেষণ করে এমন তথ্যই দিয়েছেন। রাজ্যের পরিবেশ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান যে  দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ের মতো নানান মেট্রো শহরগুলির বাতাসের মান অর্থাৎ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দীপাবলির সময় ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’, সেখানে দাঁড়িয়ে কলকাতার বাতাসের মান ‘ভালোই’।

জানা গিয়েছে, দীপাবলির দিন রাত একটা থেকে পরের দিন বিকেল তিনটে পর্যন্ত তিন ঘণ্টা অন্তর বাতাসের মান মাপা হয়েছে। আর সবক্ষেত্রেই একিউআই ছিল ৪৩-৪৭-এর মধ্যে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ৪৩, সর্বোচ্চ ৪৭। যেখানে দিল্লির একিউআই ছিল ৩০৮-৩৩০, মুম্বই ১০৬-১৩০, বেঙ্গালুরু ১২৬-১৫৮, চেন্নাই ১৬৯-২৬১। তবে মন্ত্রী এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন, দূষণ কমাতে সাহায‌্য করেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তৈরি করা পরিবেশ।

গতকাল, বৃহস্পতিবার পরিবেশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন পরিবেশ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের চেয়ারম্যান ডঃ কল্যাণ রুদ্র ও আরও অনেকে। কল্যাণ রুদ্র জানান যে রাজ্যে মোট দেড়শটি নজরদারি কেন্দ্র ও কুড়িটি ভ্রাম্যমাণ দল দূষণের মাত্রা খতিয়ে দেখেছে ও মেপেছে।

পর্ষদের একটি কমান্ড টিম রাজ্যের পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিল বলেও জানান তিনি। জানা গিয়েছে, দিনের তুলনায় রাতে শব্দের তীব্রতা কম ছিল যা রাজ্যের সাফল্য বলেই ধরা যায়। প্রশাসনের তৎপরতার কারণেই যে এটা সম্ভব হয়েছে, তাও জানান তিনি। এর জেরেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। এই কারণেই স্বচ্ছ দীপাবলি পালন করতে পেরেছে কলকাতা।

জানা গিয়েছে, চলতি বছরে দীপাবলির সময় গোটা রাজ্যে মোট ১৪ হাজার ৮৯২ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার হয়েছে। কলকাতা থেকেই ৯৬০০ কেজির বেশি শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোটা রাজ্যে মোট ২৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতায় গ্রেফতার হয়েছেন ৯২ জন। মানসবাবু জানিয়েছেন, আগামী বছর উৎসবের মরশুমকে সম্পূর্ণ দূষণহীন করতে আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রস্তুতি শুরু হবে। 

মানস ভুঁইয়া বলেন যে শীতকালে বৃষ্টি কম হয়। সেই কারণে ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণ করতে আগামী ১৫ই নভেম্বর থেকেই রাস্তা ধোয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু কলকাতাই নয়, আসানসোল, হাওড়া, ব্যারাকপুর, দুর্গাপুর, হলদিয়া, শিলিগুড়িতেও এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি এও জানান যে পশ্চিমবঙ্গে যাতে ভিন রাজ্যের বাজি ব্যবহার বন্ধ করা যায়, তার জন্য সবুজ বাজির উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

RELATED Articles