চাকরির বদলে তরুণীকে (young girl) কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডল (Sisir Mandal)। সেই কারণে এবার তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হল তৃণমূলের (TMC) তরফে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের (Panchayet Election) আগে যে তৃণমূল দলে কোনও বিতর্ক চায় না, তা এর থেকেই বেশ স্পষ্ট।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে এক কৃষক পরিবারের তরুণী চাকরির জন্য ফোন করেছিলেন দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা অগ্রদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক শিশির মণ্ডলকে। ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপিংয়ে শোনা যাচ্ছে যে ওই তরুণী তার একটি চাকরি করিয়ে দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছেন চেয়ারম্যানকে। তরুণীকে বায়োডাটা নিয়ে দেখা করতে বলেন চেয়ারম্যান। তরুণী তখন জানান যে তিনি কৃষ্ণনগরে মাসির বাড়িতে রয়েছেন, তাই এখন দেখা করা সম্ভব নয়।
এরপরই তরুণীকে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করার প্রস্তাব দেন ওই চেয়ারম্যান। দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণনগর স্টেশন লাগোয়া একটি হোটেলে যৌন মিলনের প্রস্তাব দেন ওই তরুণীকে। এমনকী, ভাইরাল হওয়া এই অডিও ক্লিপিংয়ে তরুণীর সঙ্গে অন্তর্বাস নিয়েও আলোচনা করেছেন চেয়ারম্যান, এমনটাও শোনা গিয়েছে। প্রায় ৩০ মিনিটের কথোপকথনের ভাইরাল অডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের ক্লিপিংয়ের সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭।
এই অডিও নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে শিশিরবাবু বলেন, “ওই অডিও ক্লিপ দেখে আমারও লজ্জা করছে। অডিও ক্লিপটা ভালো করে শুনলে বুঝতে পারবেন অশ্লীল শব্দগুলো আমার কণ্ঠে এডিট করে বসানো হয়েছে। আমি দলের সব স্তরে বিষয়টা জানিয়েছি”।
বুধবার রাতেই এই অডিও ক্লিপের খবর পৌঁছয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। আর এরপরই শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে শিশির মণ্ডলকে অপসারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গতকাল, বৃহস্পতিবার দলের পূর্ব বর্ধমান জেলা অফিসে দলের জেলা নেতৃত্বরা বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই শিশিরবাবুকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এখনও পদত্যাগ করেন নি।





