জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলো কখনো কখনো প্রত্যাশার মতো না চলে, তা বোঝার জন্য অনেক সময় আদালতের দরকার পড়ে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে এমনই একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা সামনে এসেছে, যেখানে আদালত একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—স্বামীর চাকরি বা রোজগারের অভাব খোরপোষ দেওয়ার দায় এড়াতে পারে না।
মামলাকারী মহিলা পানাগড়ের বাসিন্দা। তাঁর বিয়ে হয়েছিল ২০১২ সালের ৪ অগাস্ট, কলকাতার তালতলার এক যুবকের সঙ্গে, ১৯৫৪ সালের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী। বিয়ে রেজিস্ট্রি হওয়ার পর তারা দু’জনই নিজেদের বাড়িতে ফিরে যান। যদিও পরে একাধিকবার একে অপরের বাড়িতে থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন, কিন্তু সত্যিকারের ঘর সংসার গড়ে ওঠেনি। মহিলার দাবি, তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্বামীর পরিবারের বাধ্য করার কারণে তাঁকে তালতলার বাড়ি ছাড়তে হয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় মহিলা বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালের ১৬ অগাস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর সিআরপিসি ১২৫ ধারায় খোরপোষের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবিতে মামলা করেন। ২০১৫ সালে নিম্ন আদালত মহিলার দাবি মেনে মাসিক চার হাজার টাকা খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং মামলা খরচ হিসেবে ৫০০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কলকাতা হাইকোর্টও সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে। কিন্তু ২০২৩ সালে কলকাতার ফ্যামিলি কোর্টের মুখ্য বিচারক এই খোরপোষ বাতিল করে দেন।
যুবকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা মহিলার পরিবারের তুলনায় ভালো, কিন্তু নিজের কোনো ইনকাম নেই। স্বামী বলেন, স্ত্রী নিজের চাকরি থেকে মাসিক ১২ হাজার টাকা আয় করেন, তাই খোরপোষ দেওয়ার কোনো দায়িত্ব তাঁর নয়। কিন্তু বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, স্বামী নিজের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকলেও, সামাজিক ও আইনি দায়িত্ব এড়ানো সম্ভব নয়। স্ত্রীকে কার্যত রাস্তায় তাড়ানো হয়েছে, তাই স্বামীকে মাসিক চার হাজার টাকা খোরপোষ দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Rajnath Singh : “আক্রমণ ছাড়াই ভারতের সঙ্গে মিলবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর!”- মরক্কো সফরে বিস্ফোরক বার্তা রাজনাথ সিংহের!
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, বেকার স্বামীকে প্রতি মাসের ১০ তারিখে মাসিক চার হাজার টাকা করে খোরপোষ দিতে হবে। ইতিমধ্যে যা বকেয়া হয়েছে, তা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বারোটি কিস্তিতে মিটিয়ে দিতে হবে। হাইকোর্টের এই রায় সামাজিক ও আইনি দায়বোধের দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





