ভরসন্ধ্যায় রূপান্তরকামীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মদ্যপ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে, মুখ পুড়ল তিলোত্তমার!

ফের পুড়ল গর্বের তিলোত্তমার মুখ, সৌজন্যে শহরের রক্ষক কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)! রঞ্জিতা সিনহা (Ranjita Sinha) কলকাতার ট্রান্স-অ্যাক্টিভিটি জগতের সুপরিচিত নাম। সেই রঞ্জিতা ও তাঁর দুই সহকর্মীকে যারা নিজেরা এই অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে সন্ধ্যাবেলায় কলকাতা পুলিশের এক মদ্যপ কর্মী চূড়ান্তভাবে শারীরিক হেনস্থা (Sexual Assault) করলেন।

গতকাল রাত আটটা নাগাদ সেন্ট্রাল এভিনিউয়ের চূড়ান্ত ব্যস্ত রাস্তায় এই হীন ঘটনাটি ঘটে। গোটা ঘটনাটি বিশদে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন রঞ্জিতা। সেখানে তিনি ওই পুলিশকর্মীর একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন যাকে এক ঝলক দেখলে বোঝা যাচ্ছে যে তিনি সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় রয়েছেন।

ওই ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, মদ্যপ অবস্থায় ওই পুলিশকর্মী রঞ্জিতাদের স্পর্শ করতে থাকেন। তাকে বাধা দেওয়া হলে তিনি রঞ্জিতাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর ওই পুলিশকর্মী রঞ্জিতাদের জামাকাপড়ের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে গোপন অঙ্গ স্পর্শ করতে যান! এমনকি তাদের ড্রাইভার বাধা দিতে গেলে তাকেও প্রবল মারধর করা হয়।

এর পরে তারা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানেও আরেকপ্রস্থ পুলিশি হেনস্থার সম্মুখীন হতে হয়। বউবাজার থানাতে তারা যখন অভিযোগ জানাতে চান তাদেরকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয় তারপরে অনীহা সহকারে একটি লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়।

গোটা ঘটনায় রীতিমতো শকড রঞ্জিতা। তার বক্তব্য, কিছুদিন আগেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সহ কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের (TransPeople) নিয়ে একটি সেন্সিটাইজেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয় এবং আয়োজক ছিল বিধান নগর পুলিশ! সেই প্রোগ্রামের কথা ফলাও করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল। এই প্রোগ্রামে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই নিকৃষ্ট ঘটনা কলকাতার বুকে মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। যেভাবে একজন পুলিশ কর্মী একজন ট্রান্স ব্যক্তি এবং তার দুই সহকর্মীকে প্রকাশ্যে অশ্লীলভাবে হেনস্থা করল তাও ভর সন্ধ্যাবেলায় সেন্ট্রাল এভিনিউ এর মত ব্যস্ত রাস্তায় তা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

রঞ্জিতা জানিয়েছেন, এই ভাবেই তাদের মত মানুষকে প্রতিদিন এই রাজ্যে প্রশাসনিকভাবে, সামাজিকভাবে ও পরিবার গত ভাবে দমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি চান এই দুরবস্থার অবসান ঘটুক। এই শহরের মা বোন এবং অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment