বাংলায় শিক্ষক মানে একসময় ছিল সম্মানের অন্য নাম। যাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলবেন, তাঁদের কাঁধেই সমাজের দায়িত্ব। অথচ আজকের বাংলায় সেই শিক্ষকরাই রাজপথে — হাতে ব্যান্ডেজ, মাথায় সেলাই, শরীরে লাঠির দাগ। কেউ বলতে বাধ্য হচ্ছেন — “এ কেমন বাংলা? এ কেমন মুখ্যমন্ত্রী?” কারণ আজ শিক্ষকতার গায়ে লেগে গিয়েছে রক্তের ছাপ।
দীর্ঘদিন ধরে চাকরির জন্য লড়াই। কে যোগ্য, কে অযোগ্য — তার বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু রায় এসেছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে — বাতিল ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর চাকরি। সেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে। বুধবার সকাল থেকেই জেলায় জেলায় ডিআই অফিস ঘেরাও, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। চাকরি ফেরতের দাবি একটাই — “আমরা চাই আমাদের ন্যায়।”
কিন্তু আন্দোলনের আঁচ সবচেয়ে বেশি ছড়াল কসবায়। ডিআই অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানরত চাকরিহারাদের উপর আচমকা চড়াও পুলিশ। শুরু হল অমানবিক লাঠিচার্জ। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত রাজপথ। মাথা ফাটল, হাত ভাঙল, রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন বহু চাকরিপ্রার্থী। সেই রক্তাক্ত অবস্থায় এক মহিলার কণ্ঠে বিষ্ফোরণ — “অসভ্য, ইতর মহিলা মুখ্যমন্ত্রী!” — রাজ্যের প্রশাসনের প্রতি বিক্ষোভ যেন ফেটে পড়ল এই একটি কথাতেই।
ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতির নাটক, আর বাইরে পুলিশের লাঠির বৃষ্টি — এমনই ছবি ফুটে উঠল বুধবারের রাজপথে। কেবল কসবা নয়, একই চিত্র বর্ধমান, তমলুক, মেদিনীপুরেও। কোথাও ডিআই অফিসে তালা ঝোলানো, কোথাও অফিসারদের প্রবেশে বাধা। বালুরঘাটে এসএসসি’র প্রতীকী মৃতদেহ কাঁধে মিছিল। তমলুকে আন্দোলনকারীদের হুমকি — “আমরা ভলান্টিয়ারিলি কাজ করব না।”
আরও পড়ুনঃ Thakurpukur accident : আইন কি শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য? ঠাকুরপুকুর কাণ্ডে উঠছে বিস্ফোরক প্রশ্ন — সেলেব্রিটির গাড়ি মানেই কি ছাড়?
এ লড়াই শুধু চাকরির লড়াই নয়। এ লড়াই সম্মানের, ন্যায়ের। প্রশ্ন একটাই — কবে মিলবে সুবিচার? কবে মিলবে স্বপ্ন ফেরানোর আশ্বাস? আর প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে বাংলার রক্তাক্ত শিক্ষকরা আজও শুধু বলছেন — “কোথায় মানবতা? কোথায় ন্যায়?”





