কলকাতা (Kolkata) শহর, ব্যস্ত রাস্তাঘাট, ভিড়, ট্রাফিকের কোলাহল, অফিস যাওয়া-আসা, বাজার করা — এইসবের মাঝেই শহরের প্রতিটা কোণায় ছড়িয়ে থাকে হাজারও গল্প। কখনও আনন্দের, কখনও কান্নার, তো কখনও ক্ষোভের। কিন্তু সব গল্পই যে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র গল্প হয় না, তার প্রমাণ একের পর এক বাস্তব ঘটনা। রাস্তায় বেরোনোর সময় আজও সাধারণ মানুষের মনে একটা প্রশ্ন জাগে — “আমি কি নিরাপদ?”
কারণ এই শহরের রাস্তাই আজ সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। কখন যে কোন গাড়ির গতি কেড়ে নেবে কারও প্রাণ, তা জানা নেই কারও। আইন আছে, নিয়ম আছে, কিন্তু অনেকেই যেন সেটাকে তোয়াক্কা করেন না। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক রুল ভাঙা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, এমনকি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নো এন্ট্রিতে ঢুকে পড়া — এসব ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তার ফল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ঠাকুরপুকুরের (Thakurpukur) সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা।
ঘটনাটি ঘটেছে ৬ এপ্রিল, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। ঠাকুরপুকুর বাজারের কাছে ডিএইচ রোডের সেই ব্যস্ত এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটপর্দার পরিচালক সিদ্ধান্ত দাস ওরফে ভিক্টো (Siddhanta Das aka Vikto) সেই সময় নিজের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হন। অভিযোগ, নিষিদ্ধ এলাকায় অর্থাৎ নো এন্ট্রিতে ঢুকে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আরও গুরুতর — সেই সময় নাকি ভিক্টো মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন আমিনুর রহমান (Aminur Rahman)। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর ওপর গাড়ি তুলে দেন পরিচালক।
পরিবারের দাবি, গাড়ি প্রথমে দাঁড়িয়েছিল। তারপর আচমকাই গতি বাড়িয়ে ধাক্কা মারে। শুধু ধাক্কা মারাই নয়, এরপর আবার গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে গুরুতর জখম হন আমিনুর। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিস নাকি কোনও সাহায্য করেনি। অ্যাম্বুল্যান্সও আসেনি অনেকক্ষণ। অবশেষে মৃত্যু হয় আমিনুরের। যদিও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে গাড়ির ব্রেক ফেল করেছিল, কিন্তু পরিবারের দাবি, এটা ছিল ইচ্ছাকৃত খুন।
আরও পড়ুনঃ Indian Tech CEO Scandal: কোটি টাকার মালিক, অথচ নরপিশাচের জীবন! স্ত্রীর অভিযোগ — “আমাকে বন্ধুদের সঙ্গেও যৌনতায় বাধ্য করত, সন্তানের সামনেই অশ্লীলতা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আমিনুরের ছেলের। তাঁর দাবি, “ঘটনার রাতে রাত ১২টা নাগাদ পুলিশ আমাদের ডেকে বলে, টাকা নিয়ে কেস মিটিয়ে নিতে। বাবার জীবনের বদলে টাকা দিতে চাইছে! এটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” শুধু তাই নয়, পরিবারের আরও অভিযোগ, গাড়িতে মদের বোতল, গাঁজার কলকে ছিল — যা নাকি FIR-এ উল্লেখই নেই। তাঁদের দাবি, পরিচিত মুখ বলে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে অভিযুক্তদের। তবে তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। চান দোষীদের কঠোর শাস্তি। পরিবারের স্পষ্ট কথা — “সেলেব্রিটি বলেই যদি আইনের হাত থেকে বেঁচে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার কোথায়?”





