শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন যেন এক স্বপ্ন এবং অস্বপ্নের মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি যখন মাঠে প্রবেশ করলেন ঠিক সাড়ে ১১টায়, হাজার হাজার ভক্ত আনন্দে ফেটে পড়েছিলেন। দীর্ঘ দিন পর এই স্টেডিয়ামে এমন উৎসবমুখর ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। মাঠে মুহূর্তে স্লোগানের রোল দোল এবং উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল পুরো এলাকা। কিন্তু এই আনন্দের আবহ মুহূর্তেই বিরক্তিতে রূপ নিল।
মেসি-ভক্তদের অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষী, পুলিশ, মন্ত্রী ও অন্যান্য VVIP-এর ভিড়ের কারণে গ্যালারি থেকে প্রিয় ফুটবল তারকাকে পর্যাপ্তভাবে দেখা যায়নি। বহু ভক্তই হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটলেও তাদের স্বপ্নের মুহূর্তটি পুরোপুরি পূরণ হয়নি। এই ক্ষোভ ক্রমেই সামান্য সময়ে বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। গ্যালারির চেয়ার ভাঙচুর, জলের বোতল ছোড়া এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় মাঠ যেন যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কার্যত হিমসিম খায়।
এই বিশৃঙ্খলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহলও সরব। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেছেন, “যুবভারতীতে যদি কেউ চাইলে জলের বোতলের মতো ক্রেটের মধ্যে বিস্ফোরক নিয়ে আসতে পারত। এতে মেসির জীবনের জন্যও বিপদ তৈরি হতে পারত। তারপরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেসির পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং একটি হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার খোঁচা দিতে পারতেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জলের বোতলের নামে ভোট তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল এবং এভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের জোচ্চুরি এবং কালোবাজারির আরও একটি উদাহরণ সামনে এসেছে।
ভক্তদের ক্ষোভ এবং টিকিট ফেরতের দাবিও সেই ঘটনায় তীব্রতা পেয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডি জি রাজীব কুমারও জানিয়েছেন, ভক্তদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। তবে তা কবে এবং কীভাবে প্রদান করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন, এমন বিশৃঙ্খলার জন্য শুধুমাত্র ভক্তরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, বরং যুবভারতীর ইমেজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুবভারতীর অশান্তিতে সর্বস্বান্ত বসিরহাটের বিক্রেতা, ১১ লক্ষ টাকার স্বপ্ন ভাঙল এক লহমায়
শেষ পর্যন্ত, মেসির জন্য এই বিশেষ দিনটি ভক্তদের জন্য স্বপ্নের রঙ না ধরে, হতাশা এবং ক্ষোভের ছবি হয়ে দাঁড়ালো। আনন্দের মুহূর্ত যেন চরম উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খলার ছায়ায় ঢাকা পড়েছিল। এবার প্রশ্ন উঠছে, কি কারণে এমন অযথা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় অনুষ্ঠানে কীভাবে নিরাপত্তা ও দর্শকের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যাবে। রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলকে এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে দ্রুত।





