যুবভারতীর অশান্তিতে সর্বস্বান্ত বসিরহাটের বিক্রেতা, ১১ লক্ষ টাকার স্বপ্ন ভাঙল এক লহমায়

শনিবার সকালে ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে স্বাগত জানাতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। শীতের সকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের চারপাশে ছিল উৎসবের আবহ। হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী আশা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখবেন বলে। কিন্তু সেই উন্মাদনা যে অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলায় বদলে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

মেসির উপস্থিতি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য তাঁকে দেখেই হতাশ হন বহু দর্শক। অনেকে টিকিট কেটেও ঠিকভাবে কিছুই দেখতে পাননি। ক্ষোভ বাড়তে বাড়তে তা রূপ নেয় উত্তেজনায়। ভাঙচুর হয় গেট ব্যানার সহ নানা সামগ্রী। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে অশান্ত হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম চত্বর। বাংলার ক্রীড়াজগতের মুখে পড়ে দুঃখের ছায়া।

এই অশান্তির মাঝেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বসিরহাটের ব্যবসায়ী নিবারণ ঢোল। দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে খাবারের স্টল বসিয়েই তাঁর জীবিকা চলে। মেসি আসছেন শুনে তিনিও বড় স্বপ্ন নিয়ে যুবভারতীতে স্টল বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। উদ্যোক্তাদের অনুমতি পেতে ভাড়া বাবদ দিতে হয় ৬ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে পরিকল্পনা ছিল বেশ বড়।

নিবারণের সঙ্গে কাজ করছিলেন মোট ১১ জন। স্টেডিয়ামের গ্যালারির বিভিন্ন অংশে তাঁরা খাবারের স্টল দেন। জল কোল্ডড্রিংস চাওমিন প্যাটিস বিরিয়ানি এগরোল থেকে শুরু করে নানা খাবারের আয়োজন ছিল। জলের বোতল বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকায় আর কোল্ডড্রিংসের দাম পৌঁছেছিল ৩০০ টাকা পর্যন্ত। আশা ছিল ভালো বিক্রি হবে।

আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি মেসিকে ফের কলকাতায় আনার স্বপ্নে রাজনীতির নতুন রং

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় মুহূর্তে। দর্শকদের ক্ষোভে বন্ধ হয়ে যায় বিক্রি। বিশৃঙ্খলার কারণে স্টল চালানোই সম্ভব হয়নি। মোট ১১ লক্ষ টাকা খরচ করে কার্যত পথে বসার অবস্থা বসিরহাটের এই বিক্রেতার। ফুটবলের উৎসব যে তাঁর জীবনে এমন দুঃস্বপ্ন ডেকে আনবে, তা নিবারণ ঢোল কোনও দিন ভাবেননি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles