Suvendu Adhikari : “ওদের ভোটের কাজে রাখবেন না”— কমিশনে শুভেন্দুর চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল রাজনীতি! ভোটের আগেই পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তপ্ত রাজ্য!

রাজ্যে ভোটের আবহ তৈরি হতে না হতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর যেন আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে—এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি পুলিশকর্মীদের এক অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। আর সেই অভিযোগের তীর সরাসরি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিক থেকে এসেছে।

বিরোধী নেতা দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অন্তর্গত কিছু আধিকারিক নাকি সভা-সম্মেলনে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের উদ্দেশ্য কল্যাণমুখী হলেও, তা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠছে। আর এই অভিযোগের জেরে তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। শুধু চিঠি নয়—নির্দিষ্ট তিন পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্যের ভিডিয়ো ক্লিপও নাকি কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্র দিঘার একটি মহিলা পুলিশ সম্মেলন। সেই মঞ্চ থেকে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক শান্তনু সিংহ বিশ্বাসসহ আরও দু’জন আধিকারিক নাকি এমন বক্তব্য রেখেছেন যা শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী “সরকারকে ক্ষমতায় রাখার আহ্বান”-এর শামিল। তাঁর অভিযোগ—এই ভিডিও প্রমাণই দেখায়, প্রশাসনিক পোশাকে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট তিন আধিকারিকের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলে, কেউ ফোন কেটে দেন, কেউ ব্যস্ততার দোহাই দেন, আবার কারও ফোন সরাসরি ভয়েসমেলে চলে যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি। এদিকে চিঠিতে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যের নামও উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু, যদিও সাংবাদিক বৈঠকে তা আলাদা করে বলেননি।

আরও পড়ুনঃ PM Modi Ayodhya Temple Flag Hoisting: ‘৫০০ বছরের যজ্ঞ পূর্ণ হল’— রাম মন্দিরে মোদীর বার্তা কি বাবরি বিতর্ককেই ফের উসকে দিল?

শুভেন্দুর দাবি স্পষ্ট—পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে যুক্ত কাউকে যেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোনও ভোট-সম্পর্কিত কাজে অংশ নিতে না দেওয়া হয়। তাঁর মতে, ফেব্রুয়ারি থেকেই আচরণবিধি কার্যকর হতে পারে। তাই কমিশনকে আগেই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভেবে রাখতে হবে। তিনি বলেন, “সব কাজ কেন্দ্রীয় বাহিনী করতে পারবে না। কিছু কাজ পুলিশকে করতেই হয়। সেক্ষেত্রে অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ আনবে কি না তা কমিশনকে ঠিক করতে হবে।” এই দাবির পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা—ভোটের আগেই কি আরও বড় প্রশাসনিক রদবদল দেখা যাবে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর