নজির গড়ল কলকাতা! অক্সিজেন মাত্রা মাত্র ৬০, ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন অবস্থাতেই প্রসব করলেন করোনা আক্রান্ত মা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক অভূতপূর্ব সাফল্য। ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন অবস্থাতেই সন্তানের জন্ম দিলেন মা। করোনা আক্রান্ত রোগীকে ভেন্টিলেশনেই অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে মা ও শিশু দু’জনেই ভালো রয়েছেন বলে খবর।

দেশজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে যখন চারিদিকে হাহাকার, শোকপ্রকাশ, এরই মধ্যে এরকম একটি ঘটনা, এমন বিরল অস্ত্রোপচার যেন খানিকটা আশার আলো দেখাল সকলকে।

আরও পড়ুন- উত্তরবঙ্গের পর এবার রাঢ়বঙ্গ! পৃথক রাজ্যের দাবী তুলে বিতর্কের মুখে সৌমিত্র খাঁ

করোনা আক্রান্ত ওই রোগীর নাম রাখি মণ্ডল বিশ্বাস। বয়স ৩৩। উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা রাখি কিছুদিন আগেই গর্ভাবস্থায় করোনা আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ক্রমেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপরই তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়।

জানা যায়, ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন অবস্থায় তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৬০-এ নেমে যায়। এরপরই চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন অবস্থাতেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে। সন্তানকে বের করে নিলে তবেই তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন- চীনকে বড় ধাক্কা বিজেপি সরকারের, সি জিনপিংয়ের দেশ থেকে ভারতে নিজেদের কারখানা সরিয়ে আনল স্যামসাং

ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন প্রসব, এ কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এই কারণে স্বাস্থ্য ভবন থেকে এই অস্ত্রোপচারের জন্য অনুমতির জন্য আবেদন জানানো হয়। অনুমতি মিললে পর আজ, সোমবার পাঁচ চিকিৎসক মিলে চালান অস্ত্রোপচার। নির্ধারিত সময়ের কিছু সপ্তাহ আগেই শিশুকে বের করে আনা হয়।

শিশুকেও আপাতত ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে শিশুটিকে। তবে মা ও শিশু, দুজনেই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ভৌমিক, শবনম বানু, সুমনা পাল, দেবাশিস ঘোষ ও অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান। চিকিৎসক পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মা’কে বাঁচানোর জন্যই আমরা এমন চেষ্টা করেছি। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ছিল। কিন্তু এ ছাড়া আর পথও ছিল না”।

ইউনিট হেড অধ্যাপক তপন নস্কর বলেন, “আমাদের চিকিৎসকেরা উদাহরণ তৈরি করলেন। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। করোনা পর্বে এমন সাহসী ও বিজ্ঞান সম্মত চ্যালেঞ্জ রাজ্যে বা দেশের কাছে অবশ্যই উদাহরণ”।

RELATED Articles