ফের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তোষণের অভিযোগ উঠল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগেই রাজ্য পুলিশের ওবিসি বিভাগে ৩৭ জন পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই ৩৭ জনের মধ্যে ৩৫ জনই সংখ্যালঘু অর্থাৎ মুসলিম সম্প্রদায়ের। যা নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারের নির্বাচনে সমস্ত মুসলিম ভোট সিপিএম থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়েছে। আর এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের আশ্বাস দেন যে তাদের কর্মসংস্থান বাড়বে। আর সেই ফল হাতেনাতেই মিলল
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বরিষ্ঠ আধিকারিক বলেন, “এই নিয়োগের মধ্যে কোনও অবৈধতা নেই। কমিটির রিপোর্ট ও এর পরবর্তী নানান সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করেই এই নিয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ হয়েছে এবং মুসলিমদের এই পদে নেওয়া হয়েছে”।
যে মেরিট লিস্ট নিয়ে এত প্রশ্ন তা আসলে পুলিশের ওবিসি বিভাগের পদের জন্য।পশ্চিমবঙ্গে ওবিসির মোট ১২০টি সম্প্রদায় রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিমদেরই রয়েছে ৭২টি সম্প্রদায়। ওবিসি-বি শ্রেণীতে মুসলিমদের ৪০টি সম্প্রদায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ১২০টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ১১২টিই মুসলিমদের মধ্যে পড়ে। নিয়োগপত্র দেখলে বোঝা যায় যে এক-দু’জন ছাড়া বাকী নিয়োগীদের সকলেই মুসলিম। এমন ঘটনা এই প্রথম নয়, ২০১৯ সালেও এই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন- উত্তরবঙ্গের পর এবার রাঢ়বঙ্গ! পৃথক রাজ্যের দাবী তুলে বিতর্কের মুখে সৌমিত্র খাঁ
এই বিষয়ে শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন কুলপতি ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস বলেন, “এমন নিয়োগের পর রাজ্যে পুলিশের কর্মক্ষমতা নিরপেক্ষ থাকবে, তা বলা যায় না। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের রাজনীতি নয়, এটা ঘোর অন্যায়। ওবিসি বিভাগের নামে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে চাকরি দেওয়ার অর্থ হিন্দুদের তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা। ওবিসিতে কী হিন্দু নেই? ভর্তির সময় তাদের নামও প্রকাশ করা উচিত”।
এই বিষয় নিয়ে বিজেপি নেতা তথাগত রায়কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজী হন নি।





