বাঙালি ও চপ, এই দুটো নাম যেন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিকেল বা সন্ধ্যের সময় পাড়ার রকে বসে চা সহযোগে গরম গরম তেলেভাজা, এই দৃশ্য কলকাতার অলিগলিতে খুব স্বাভাবিক। যদিও এই রকে বা পাড়ার মোড়ে বসে আড্ডা দেওয়ার ব্যাপারটা এখন বেশ কমে গিয়েছে। কিন্তু তবুও একেবারে তা বিলীন হয়ে যায়নি।
চপ নিয়ে বাঙালির ফ্যাসিনেশনের অন্ত নেই। আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চপ শিল্পকে পাথেয় করেই ভবিষ্যৎ দেখেছেন। চপ শিল্প যে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা তিনি আগেই বুঝেছিলেন। এবার সেই চপ শিল্পকেই আরও এগিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে খাস কলকাতাতেই খুলল চপ শিল্পের দোকান।
হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন, চপের দোকান নয়, চপ শিল্পের দোকান। যেখানে পাওয়া যায় হরেক রকমের চপ। যাদবপুরের সুলেখা মোড়ে গত পরশুই উদ্বোধন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের প্রথম চপ শিল্পের দোকানের। প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই দোকান। এই দোকান উদ্বোধনের দু’দিনের মধ্যেই বেশ পরিচিতি পেয়েছে।
এই চপ শিল্প দোকানে মেলে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আলুর চপ থেকে শুরু করে বেগুনী, মোচার চপ, ডেভিল, আমের চপ, চিকেন চপ, মাটন চপ, চিংড়ির চপ সবই। আলুর চপ ও বেগুনীর এক পিসের দাম ২০ টাকা। এছাড়াও এই দোকানে পাওয়া যায় স্প্রিং রোল, মাটন কাটলেট, ফিশ ফ্রাই, চিকেন কাটলেট, ও আরও নানান আইটেম। দোকানদারদের কথায়, তাদের গন্ধরাজ চিকেনের চাহিদা খুব বেশি
শুধুমাত্র চপই নয়, এই দোকানে মেলে নানান ধরণের রোলও। এছাড়াও পাওয়া যায় নানান মোগলাই আইটেম ও হরেক ধরণের মকটেলও। এই দোকানের সবথেকে ভালো ব্যাপার হচ্ছে দোকানটি যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন যা ক্রেতাদের আরও বেশি আকৃষ্ট করবে। জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই এই চপ শিল্প দোকানের আরও বেশ কয়েকটি আউটলেট খুলবে কলকাতার নানান জায়গায়। তখন এই চপ খেটে শুধুমাত্র যাদবপুরই নয়, আরও অনেক জায়গাতেই যাওয়া যাবে। চপের দাম একটু বেশির দিকে হলেও এই দোকানের চপের মান নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না খাদ্যরসিকদের মনে। তাহলে আর দেরি কীসের, একবার না হয় একটু ঢুঁ মেরে এই চপ শিল্প দোকানের চপের স্বাদ নিয়েই আসুন।





