West Bengal Economic Crisis : তৃণমূলের আমলেই বাংলায় শিল্পের ‘মহাপলায়ন’! ৬,৮৯৫ সংস্থা রাজ্য ছাড়ল—রাজ্যসভায় নির্মলার বিস্ফোরক তথ্য, উত্তরে তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল!

দেশজুড়ে শীতকালীন অধিবেশনে যখন একের পর এক বিল, আলোচনা, তর্ক-বিতর্কে সংসদ মুখর—তখনই হঠাৎ উত্তাপ ছড়াল পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে। রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্প-বিনিয়োগ, কেন্দ্রীয় অনুদান—সব মিলিয়ে নতুন করে সামনে এল পুরনো বিতর্ক। কিন্তু ঠিক কী নিয়ে এমন উত্তেজনা সংসদের উচ্চ কক্ষে? প্রশ্ন বাড়ছে দেশজুড়ে।

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সেন্ট্রাল এক্সারসাইজ বিল ২০২৫ পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিল সংক্রান্ত আলোচনায় তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ অভিযোগ তুলেন—কেন্দ্র নাকি সচেতনভাবেই বাংলাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এখানেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “বাংলাকে কোনও ক্ষেত্রেই বাদ দেওয়া হয়নি। বরং তৃণমূল সরকারের নীতিই উন্নয়নে বাধা।” এখান থেকেই শুরু হয় তর্ক-বিতর্কের নতুন পর্যায়, যা গড়ায় বাংলার শিল্প-পরিস্থিতিতে।

দ্বিতীয় আঘাত আসে শিল্পক্ষেত্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে। অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে মোট ৬,৮৯৫টি সংস্থা। এর মধ্যে ৪৪৮টি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং বাকি ৬,৪৪৭টি আনলিস্টেড। শুধু তাই নয়, কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মলহোত্রা জানিয়েছেন—শেষ ছ’মাসেই রাজ্য থেকে বিদায় নিয়েছে ২০৭টি সংস্থা, আর গত বছরে সংখ্যাটি ছিল ৩৬৬। এই বিশাল অঙ্কের তথ্যই তৃণমূলের দিকে তির ছোড়ার প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠে।

অর্থমন্ত্রী তথ্য দিয়ে জানান, ২০১৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ কর-বিচ্যুতি হিসেবে পেয়েছে ৫.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের দশ বছরের তুলনায় ৪.৪ গুণ বেশি। রাজ্যে তৈরি হয়েছে এইমস কল্যাণী, অনুমোদন পেয়েছে ১১টি মেডিকেল কলেজ। রেলের উন্নয়নে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে রাজ্য পেয়েছে ১৩,৯৫৫ কোটি টাকা—২০০৯-১৪ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। পাশাপাশি ৩,৮৪৭.৫ কোটি ব্যয়ে ১০১টি অমৃত ভারত স্টেশন তৈরির কাজ চলছে এবং ৯৮% রেললাইন বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সড়ক নির্মাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

আরও পড়ুনঃ Indigo flight crisis: ফ্লাইট বাতিলেও স্বপ্ন পূরণ, ভিডিও কলে সম্পন্ন নবদম্পতির রিসেপশন!

তৃণমূল সাংসদদের অভিযোগ—“বাংলাকে শিল্পক্ষেত্রে কেন্দ্র কিছুই দেয়নি। নতুন কোনও কারখানা হয়নি, নতুন প্রকল্পও নয়।” তাঁদের দাবি, কেন্দ্র বাংলার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছে। তর্ক চরমে উঠলে শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউট করে তৃণমূল। এখানেই শেষ নয়—তাঁরা অভিযোগ করেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনের পয়েন্ট অফ অর্ডারও গ্রহণ করা হয়নি, যা সাংসদদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। শেষ পর্যন্ত একটি বিষয়ই পরিষ্কার—সংখ্যা, পরিসংখ্যান, অনুদান ও অভিযোগ–সব মিলিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্কের রাজনৈতিক উত্তাপ আগামীদিনেও কমার নয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles