RG KAR case: তিলোত্তমার রাত দখল আন্দোলন কি সত্যিই থিতিয়ে পড়েছে? কী বিস্ফোরক বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা!

তিলোত্তমা খুন-ধর্ষণের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। রাজপথে গর্জন যেন এখনও শোনা যায়, তবে তার রূপ ও তীব্রতায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। শহরের রাজনীতির আঁচে জ্বলতে থাকা এই আন্দোলন গত এক বছরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে। শুক্রবার রাতের শহর আবারও সাক্ষী থাকল সেই প্রতিবাদের, মশাল হাতে পথে নামলেন বহু মানুষ।

শুক্রবার WBJDF আয়োজিত রাতদখল মিছিলে কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল প্রতিবাদের ঢেউ। শহরের পাশাপাশি শিলিগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও ছোট বড় মিছিল হয়। মশালের আলোয় মুখরিত রাস্তায় আবারও ভেসে উঠল সুবিচারের দাবি। তবে এবারের মিছিলে গত বছরের মতো বিনোদন জগতের ততটা উপস্থিতি দেখা যায়নি। উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী দেবলীনা, যিনি আগের মতোই পা মিলিয়েছেন প্রতিবাদীদের সঙ্গে।

দেবলীনা জানান, “আমাদের বহু সতীর্থ কেন আজ মিছিলে পা মেলালেন না, সেটা একেবারেই তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে অনেকেই কর্মক্ষেত্রে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাই সময় মেলাতে পারেননি।” আন্দোলন থিতিয়ে পড়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য, “গত এক বছর WBJDF আন্দোলন জিইয়ে রেখেছে। সংবাদমাধ্যমে হয়তো ততটা প্রচার হয়নি, তাই অনেকে ভাবছেন আন্দোলন ম্লান হয়েছে। কিন্তু আজকের রাতদখলই প্রমাণ, আঁচ এখনও জ্বলে।”

হাতিবাগানেও চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ একত্রে প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনকারী চিকিৎসক আসফাকুল্লা নাইঞা বলেন, “কোনও আন্দোলনই একইভাবে একই আঁচে জ্বলতে পারে না। কিন্তু মানুষের মনে আন্দোলনের আগুন এখনও রয়েছে, লড়াই জারি থাকবে।” অনিকেত মাহাতো জানান, “নবান্ন অভিযানে সাংগঠনিকভাবে আমরা থাকছি না। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ন্যায়বিচারের দাবিতে গেলে, আমরা বাধা দিচ্ছি না।”

আরও পড়ুনঃ Nabanna abhijan : শান্তিপূর্ণ মিছিলেই জোর প্রশাসনের, তবুও নবান্ন অভিযানে কড়া নিরাপত্তা বলয় কলকাতায়!

শনিবার নবান্ন অভিযানে যাবেন তিলোত্তমার বাবা-মা। দলীয় পতাকা সরিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদেরও সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে WBJDF-এর ধারাবাহিক আন্দোলন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে রাজপথে ন্যায়বিচারের ডাক আরও জোরদার হচ্ছে। যদিও আন্দোলনের তীব্রতা কমেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই, কিন্তু শুক্রবারের রাতদখল স্পষ্ট করে দিল—লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

RELATED Articles