কলেজ জীবন মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন দিগন্তের দিকে পথচলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের কণ্ঠে ওঠে মুক্ত চিন্তার সুর। কিন্তু যখন সেই সুরে মিশে যায় বিতর্কের সুর, তখন তা শুধু ক্যাম্পাস নয়, সমগ্র সমাজে প্রতিধ্বনিত হয়। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই প্রতিধ্বনিরই প্রতিফলন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য জ্ঞান বিতরণ ও মুক্ত চিন্তার প্রসার। তবে কখনও কখনও এই মুক্ত চিন্তার অভিব্যক্তি বিতর্কের জন্ম দেয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
গত একদিনের মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি মিছিলের সময় প্যালেস্টাইনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, এই মিছিলটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির, বিশেষ করে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) এবং রেভল্যুশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (RSF)-এর সদস্যদের দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল। মিছিলের সময় প্যালেস্টাইনের পতাকা সহ সংগঠনের নিজস্ব পতাকাও প্রদর্শিত হয়।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (JUTMCP) সভাপতি কিশলয় রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে কার্যত প্রশাসনিক শূন্যতা বিরাজ করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে চরমপন্থীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, RSF নেতা ইন্দ্রনউজ রায় প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ABVP রাম নবমী উদযাপন করতে পারল, যেখানে অন্যান্য ইভেন্টের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ TMC : ‘ইংরেজি বললেই নেতা?’ মহুয়া মৈত্রকে ‘সুন্দরী মহিলা’ কটাক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! তৃণমূলের অন্দরেই লড়াই তুঙ্গে!
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ সতর্ক হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনার ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ এবং দোষারোপের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।





