TMC : ‘ইংরেজি বললেই নেতা?’ মহুয়া মৈত্রকে ‘সুন্দরী মহিলা’ কটাক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! তৃণমূলের অন্দরেই লড়াই তুঙ্গে!

রাজনীতির আঙিনায় যখন লোকসভা ভোটের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে শোনা যাচ্ছে ফাটলের আওয়াজ। লড়াই এখন আর বাইরের নয়, ঘরের মধ্যেই দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে দিনে দিনে। তৃণমূল কংগ্রেস, যার নেতৃত্বে এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা শাসিত হয়েছে, সেই দলেরই নেতারা এখন প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন! যার ফলে রাজনৈতিক মহলে উঠেছে একটাই প্রশ্ন—তৃণমূলে কি তবে অঘোষিত অন্তর্কলহ শুরু হয়ে গিয়েছে?

সাধারণ মানুষ যখন রাজনীতি থেকে কিছু ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার আশা করে, তখন নেতাদের মুখে এই ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমণ শুনে অনেকেই হতবাক। একজন বর্ষীয়ান সাংসদ যদি প্রকাশ্যে দলেরই অন্য নেতার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন, তাহলে তৃণমূলের ঐক্য ঠিক কতটা বজায় রয়েছে—সেই প্রশ্ন তোলা এখন সময়ের দাবি। আসন্ন ভোটের আগে এই ধরনের পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে দলটির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এই আবহেই মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেত্রীদের নাম না করে এক ‘ইংরেজি বলা সুন্দরী মহিলা’ সাংসদকে আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি, ওই সাংসদের অতীত নিয়েও কটাক্ষ করেন। কল্যাণ বলেন, “কে বলেছে ওদের কোনও অবদান আছে? কংগ্রেসের এক বড় নেতার বান্ধবী বলেই তো দলে ঢুকেছে! সুন্দরী মহিলা বলে, ফটাফট ইংরেজি বলতে পারে বলে আমায় অপমান করবে? এটা মেনে নেব না!” যদিও এখানে তিনি কার কথা বলছেন, তা স্পষ্ট না করলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

তবে এখানেই থামেননি কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, ওই মহিলা সাংসদ একবার দলের অনুমতি ছাড়াই সংসদ ভবনের ভিতরে সন্দেশের দোকান খোলার প্রস্তাব দেন। কল্যাণ জানান, তিনি সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমি তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সাংসদ হয়েছি। কিন্তু দলের নীতির বাইরে কিছু হলে তো বিরোধিতা করতেই পারি। আর এই কারণেই আমার চরিত্র হননের চেষ্টা হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের তরফে স্মারকলিপি জমা দেওয়া নিয়েও দলীয় স্তরে মতবিরোধ তৈরি হয়। বিজেপির অমিত মালব্য একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, তৃণমূলের এক সাংসদ দলের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে সরাসরি কমিশনে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ Thakurpukur : গাড়ির ব্রেক ফেল করেনি, ইচ্ছে করেই মানুষকে পিষে মারল পরিচালক? বিস্ফোরক অভিযোগ ঠাকুরপুকুরে মৃতের পরিবারের

এই ঘটনার পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য দলীয় অন্দরেই বড়সড় আলোড়ন তুলেছে। তিনি নাম না করলেও যাঁর বিরুদ্ধে এই আক্রমণ, তাঁকে ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও মুখ খোলেনি ঠিকই, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এখন আর চাপা নেই—বস্তুত, প্রকাশ্যেই তা বিস্ফোরণের রূপ নিচ্ছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles